বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই চড়ছে পারদ। এবার প্রথম দফার ভোটের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৬টি জেলায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রথম পর্যায়ের নির্বাচন। কমিশন সূত্রে খবর, এসআইআর-এর বিবেচনাধীন নামগুলি অন্তর্ভুক্ত করার পর চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮৪ লক্ষ এবং মহিলা ভোটার প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ। পাশাপাশি এই দফায় ৪৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।

ভৌগোলিক দিক থেকে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে। তালিকায় রয়েছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং। এর পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকেও এই দফায় রাখা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম।

জেলাওয়াড়ি ভোটারের পরিসংখ্যানে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, এই দফায় মুর্শিদাবাদ জেলা আয়তনে ও ভোটারের নিরিখে সবচেয়ে বড়। সেখানে ভোটার সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মালদহ জেলাতেও ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৮ লক্ষ। উল্টোদিকে, পাহাড়ি জেলা কালিম্পংয়ে ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে কম, প্রায় ২ লক্ষের কাছাকাছি।

সীমান্তবর্তী এলাকা এবং জঙ্গলমহলের জেলাগুলিকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। ফলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারির পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন – ভোটের প্রস্তুতিতে ‘নজরে’ তিন জেলা, সোমে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের দল

_

_

_
_
_
