থেমে গেল ‘পিয়া তু- র ঝংকার, কথা হয়েছিল আরও কিছুদিন এভাবেই সুরের সফরে গান গাওয়ার। কিন্তু আজ সব শেষ। আশা নেই। রবিবারের সকালে ভারতীয় সংগীত জগতে বড় দুঃসংবাদ। কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের মৃত্যু শুধু এক অধ্যায়ের অবসান নয়, এ এক অপূরণীয় ক্ষতি।

শনিবার সন্ধ্যায় বুকের সংশোধন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর আসতেই অনুরাগীদের মনে আশঙ্কার কালো মেঘ জমতে শুরু করেছিল। আর সেটাই সত্যি হল। ৯২ বছর বয়সে জীবনাবসান প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর। আশার জীবন মানেই শুধু গান নয়, এ এক কঠিন যুদ্ধের গল্প। মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রেমে পড়েন। তাঁর চেয়ে ২০ বছরের বড় গণপতারাও ভোঁসলেকে বিয়ে করায় দূরত্ব বাড়ে পরিবারের সঙ্গে। দীর্ঘ সময় কথা বন্ধ ছিল বড় দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গেও। একদিকে মানসিক দোটানা অন্যদিকে চরম রক্ষণশীল শ্বশুরবাড়িতে পুত্রবধূর সম্মান না পাওয়ার যন্ত্রণা সবার থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন শিল্পী। তৃতীয় সন্তানের জন্মের আগে মানসিক শারীরিক নির্যাতন সব সীমা ছাড়ায়। স্বামীর ঘর ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। আসলে কিংবদন্তি গায়িকার জীবনের উজ্জ্বল আলোর আড়ালে যে কতটা অন্ধকার ছিল সেকথা বাইরে প্রকাশ করতে পছন্দ করতেন না তিনি। তাই হাসিমুখে গান গেয়ে সব কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করে গেছেন। ৯০ বছরেও কনসার্ট করেছেন অবলীলায়। মা সরস্বতীর আশীর্বাদ ছাড়া সেটা সত্যিই অসম্ভব।

দীর্ঘ কর্মজীবনে আশা হিন্দি , বাংলা ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অজস্র চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন এবং বহু পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। বর্ষীয়ান গায়িকা ২০০৮ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হন, পেয়েছেন পদ্মভূষণও। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত ভারতীর সঙ্গীত মহল থেকে সিনে দুনিয়া।

–

–

–

–

–
–
–
–
