‘বিজেপিতে থেকে নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়”, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোট দাঁড়িয়েছিলেন যিনি, আজ সেই চন্দ্র বসু(Chandra Bose) কীর্তি আজাদ ও ব্রাত্য বসুর উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে এভাবেই তোপ দাগলেন বিজেপিকে।

রবিবার তৃণমূল ভবনে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের হাত থেকে পতাকা তুলে নিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু(Chandra Bose)। তিনি সুভাষচন্দ্র বসুর মেজদাদা শরৎচন্দ্র বসুর ছেলে অমিয়নাথ বসুর পুত্র। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন তিনি বলেন, “বিজেপি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ মানে না। বিজেপিতে থেকে নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। আজ আমরা দেখছি যে, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াচ্ছে। এখন ভারতকে বাঁচাতে এবং বিভেদের রাজনীতিকে রুখতে লড়াই করতে হবে।”

চলতি বছর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি, রাজ্য সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি থেকেই জল্পনা শুরু হয়। রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে চন্দ্র বসু বলেছিলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করছি, কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, দেশের নেত্রী হিসেবে আপনি এগিয়ে আসুন। নেতাজির আদর্শই একমাত্র ভারতকে রক্ষা করার পথ।”

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিজেপিতে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ শাখার সহ সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন চন্দ্র বসু। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনেও তিনি কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও দুবারই পরাজিত হন।

এরপর থেকেই NRC, ‘গুমনামী বাবা’ সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশের দাবি, হিন্দুদের মাংস খাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরব হওয়ায় তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল গেরুয়া শিবিরের। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, নাড্ডা-মোদী-শাহকে চিঠি পাঠিয়ে বিজেপি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। এবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে ডাক পড়েছিল তাঁর। নেতাজির প্রপৌত্রকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ২৭ মার্চ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি জানিয়েছিলেন যে তাঁর বিজেপিতে যোগদান করার সিদ্ধান্ত ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল। লেখেন, “কোনও দলের উদ্দেশ্য যদি হয় নির্বাচনে জেতার জন্য ভোটারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, তা হলে তা আমার পক্ষে মানা সম্ভব নয়!”

–

–

–

–
–
