বাংলায় এসআইআর করে যেভাবে ন্যায্য ভোটারদের ভোটদানের অধিকার হরণ করার খেলা খেলছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI), তার প্রতিবাদ রাজ্যের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল করেছে, বিজেপি বাদে। সোমবার তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শোনাবে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। তার আগে সু্প্রিম কোর্টের (Supreme Court) আরেক বেঞ্চ জানালো ভোটদান (voting right) বা ভোটপ্রার্থী হওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠানের নিয়মগত অধিকার। এগুলি মৌলিক অধিকার (fundamental right) নয়। প্রতিষ্ঠানের তৈরি সিদ্ধান্তই সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে জানালো শীর্ষ আদালত।

রাজস্থানের একটি সমবায়ের নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগরত্না ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও প্রতিষ্ঠানের তৈরি নিয়মই সেখানকার ভোটদানের বা প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নির্ণয় করে। এই দুটি কোনও মৌলিক অধিকার নয়। কোনও আদালতের সেক্ষেত্রে ক্ষমতা নেই সেই আইন সংশোধন বা বাতিল করার।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বাংলার এসআইআর মামলার শুনানির আগে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। এই মামলা রাজস্থানের হলেও আদতে এখানে প্রতিষ্ঠানের অধিকার ও নিয়মকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দুই দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। অথচ ট্রাইবুনালে বিবেচনার অপেক্ষায় প্রায় ২৫ লক্ষ ভোটার। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল (appellate tribunal) তাঁদের মধ্যে যাঁদের ভোটার বলে বিবেচিত করবেন তারা কি আদৌ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (assembly electelection) দিতে পারবেন, সেই আলোচনায় উত্তাল গোটা বাংলা।

আরও পড়ুন : আগামী বছরও SIR হবে না গ্যারান্টি কি? সারাভারত ডিলিটেড ভোটারদের সংগঠন গড়ার পরামর্শ পরাকলার

এই পরিস্থিতিতে ভোটদানের অধিকারকে প্রতিষ্ঠান নিয়মের অধিকার বলে সুপ্রিম কোর্টের এভাবে উল্লেখ করাকে বাংলার এসআইআর (SIR) মামলার সঙ্গে যুক্ত করছেন রাজনীতিকরা। বিচারপতি নাগরত্না এবং বিচারপতি মহাদেবনের রায় যদি বাংলার এসআইআর মামলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, সেক্ষেত্রে ন্যায্য ভোটাররা আর ভোটার তালিকায় জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হচ্ছে সন্দেহ। যদিও সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সব ভোটারের ভোটদানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কি হবে, তা নিয়েও থাকছে প্রশ্ন।

–

–

–

–
–

