পায়ে পায়ে ১৪৩৩! নববর্ষের সকালে ভিডিয়োবার্তায় শুভেচ্ছাবার্তার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ‘বাংলার উপর অত্যাচার, জুলুম’ করা হচ্ছে, এমনটাই জানালেন তিনি। শুধু তাই নয়, বদল চাওয়ার পরিবর্তে এবার তিনি এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার ডাক দিলেন। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হওয়ার কথাও বলেন।

এদিনের পোস্ট থেকে ভোটের বাক্সে ‘বদলা নেওয়ার’ বার্তা দিলেন নেত্রী। ভোটপ্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই সব জনসভা থেকেই একই বার্তা দিচ্ছেন তিনি। পয়লা বৈশাখের ভিডিয়োবার্তার প্রথমেই সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘‘বাংলার একটা ঐতিহ্য, গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। সঙ্গে অনেক রাজ্যেরও নববর্ষ আছে। সকলকে শুভেচ্ছা। বাংলা সম্প্রীতি, সংহতির, সংস্কৃতির পীঠস্থান। আসুন, শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতির বার্তা দিয়ে আমরা নতুন ভোর নিয়ে আসি।” এরপরেই সার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ”যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, এসআইআরের জন্য যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আমি জানি, একটা পরিবারে চার জন ভোট দেবেন, এক জন পারবেন না, সেটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি নিজে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। ৩২ লক্ষ বাদ যাওয়া নামকে তুলতে পেরেছি। বাদবাকি যাঁরা আছেন, তাঁদের নামও আশা করি ভবিষ্যতে উঠবে। কারণ, ট্রাইবুনাল চলছে।’’

এরপরেই সকলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘‘দাঙ্গা নয়, অত্যাচার নয়, রক্ত নয়! ওরা দিল্লি থেকে চমকাচ্ছে। কোনও চমকানি নয়। গণতন্ত্রের পীঠস্থান হচ্ছে নির্বাচন। এটা মানুষের ভোটের উৎসব। মানুষের রায়ই ঠিক করবে ভবিষ্যতের পথ। শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগই হোক মূল লক্ষ্য। রাজ্যের ২৯৪টি আসনে তিনিই প্রার্থী, তাই নববর্ষে তৃণমূল প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জেতাতেই হবে।”ভিডিয়োবার্তায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা তুলে মোদি শাহকে ‘দিল্লির জমিদার’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের সরকার ১০৫টা সামাজিক প্রকল্প করেছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, সব মানুষ এই প্রকল্পগুলি থেকে সুবিধা পান। আগামী দিনেও সব মানুষ যাতে ভাল থাকেন, সেটা দেখাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। দিল্লির জমিদারেরা অনেক অত্যাচার করছে, ভোট কাটছে, অনধিকার প্রয়োগ করছে। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার উপর জুলুম অত্যাচার করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন। দয়া করে আপনারা ভোট দিন। সকাল সকাল ভোট দেবেন। নিজের ভোট নিজে দেবেন। জয় বাংলা!”

–

–

–

–

–
–
–

