বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোটগ্রহণ ঘিরে চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যেই এবার ইভিএম সংরক্ষণ ও গণনা কেন্দ্র চূড়ান্ত করার কাজ সেরে ফেলল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে মোট ৮৭টি স্ট্রং রুম ও গণনাকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ডিসিআরসি, স্ট্রং রুম এবং কাউন্টিং সেন্টারের স্থান চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্রগুলি ৪৪টি জেলা সদর ও ৪৩টি মহকুমা সদরে ভাগ করে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সুবিধা-সহ যাবতীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিড় ও চাপ সামলাতে কলকাতা-সহ বড় জেলাগুলিতে একাধিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্টেডিয়াম এবং সরকারি ভবনগুলিকেই এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি স্ট্রং রুমে থাকবে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর কড়া পাহারা এবং ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তায় থাকবে দ্বিস্তরীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা— একটি চাবি থাকবে প্রশাসনের কাছে এবং অন্যটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধির কাছে।
ভোটারদের সুবিধার্থে এবার রাজ্যে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়াল কমিশন। নতুন করে ৪৬৬০টি সহায়ক ভোটকেন্দ্র তৈরি করায় পশ্চিমবঙ্গে মোট বুথের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৫ হাজার ৩৭৯। যেসব বুথে ভোটারের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে, সেখানেই নতুন সহায়ক বুথ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। ওই দফায় মোট বুথের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৩৭৮। দ্বিতীয় দফায় বুথের সংখ্যা থাকছে ৪১ হাজার ১টি। কিছু বুথের ঠিকানাও পরিবর্তন করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রচার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিকে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৮৬৫ কোটি টাকার বেশি নগদ, মদ ও মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই বাজেয়াপ্তের পরিমাণ ৪২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ২১ কোটি টাকা নগদ, ৮১ কোটি টাকার মদ, ১০০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য এবং ১৭২ কোটি টাকার উপহার সামগ্রী। ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ২৭২৮টি ফ্লাইং স্কোয়াড ও ৩১৪২টি সার্ভিল্যান্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে। নাকা চেকিংয়ের পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এই দলগুলি। ভোট প্রক্রিয়াকে হিংসা ও প্রলোভনমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে ‘সি-ভিজিল’ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- সোশ্যাল মিডিয়া এফেক্ট! রোহিতের বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারির পর কী বললেন অভিযুক্ত
_
_

_

_

_

_

