I.N.D.I.A. একজোট হয়ে বিরোধিতা করায় মহিলা সংশোধনী সংরক্ষণ বিল পাশ করতে পারেনি মোদি সরকার। বিজেপি চাইলেও সংবিধান আমরা পাল্টাতে দেব না। শনিবার, মুর্শিদাবাদে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার সভা থেকে জানালেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “মহিলা সংরক্ষণ বিল নয়, ডিলিমিটেশন বিল আটকানো হয়েছে।“

এদিন প্রথমে ফরাক্কা ও সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে আল-আমান শিক্ষা মিশন গ্রাউন্ড থেকে ফরাক্কার জিগরি মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। জনস্রোতে ভাসে গোটা রাস্তা। তৃণমূল সেনাপতিকে একঝলক দেখতে রাস্তার দুধারেই শুধু নয়, বাড়ির ছাদে, বারান্দাতেও ভিড় উপচে পরে। রোড শো শেষে পথ সভা থেকে একযোগ কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী ও আমজনতা উন্নয়ন প্রার্থীর প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন তিনি। এর পরে মুর্শিদাবাদে লালবাগ সিংহী হাই স্কুলের মাঠে তৃণমূল প্রার্থী শাওনি সিংহ রায়ের সমর্থনে জনসভা থেকে বিজেপি-কংগ্রেসকে বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ করেন অভিষেক।

তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সংসদে বিল আটকানোর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “কালকে দেখেছেন তো এরা সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিল। মহিলা সংরক্ষণ বিল এটা না। মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়ে গিয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। এটা ডিলিমিটেশন বিল ছিল। তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে বিজেপি চাইলেও সংবিধান আমরা পাল্টাতে দেব না।“ এর পরেই বিজেপি নিশান করে অভিষেক বলেন, “ডিলিমিটেশনের নাম করে, যারা ভাগ করতে চেয়েছিল তারা কালকে লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।“

পরে জন সভা থেকে তৃণমূল সেনাপতি বলেন, “ভারতবর্ষকে ভাগ করতে চেয়েছিল নরেন্দ্র মোদির গরিব বিরোধী জনবিরোধী সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স-এর সব পার্টি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেটা রুখে দিয়েছে। সংবিধানকে পাল্টাতে দেয়নি। সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করতে পারেনি। এটাই মানুষের ক্ষমতা।“

ফের এদিন এসআইআর-এর কারণে যাঁদের ভোটার লিস্ট থেকে নাম কাটা গিয়েছে, তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, “যাদের নাম বাদ গেছে চৌঠা নিয়ে ফল বেরোবে আর চৌঠা জুনের মধ্যে আপনাদের ভোটার আইডি কার্ড আপনাদের হাতে থাকবে এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি। জ্ঞানেশ কুমার বা নির্বাচন কমিশনের সময় তো শেষ হয়ে এলো আর তো শুধু এই মাসটা আর ওই মাসে চার দিন।“

মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে একযোগে কংগ্রেসকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “কংগ্রেস অসমে প্রধান বিরোধীদল ছিল। এনআরসি যখন হয়েছে রুখতে পারেনি। ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালিকে বাদ দিয়েছে ও ৭ লক্ষ মাইনরিটি মুসলমান ভাইদের বাদ দিয়েছে। ১৯ লক্ষ লোককে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়েছে কংগ্রেস রুখতে পারেনি। কংগ্রেসের এখনও তো তিন-চারটে রাজ্যে সরকার রয়েছে কিন্তু এসআইআর-এর নামে কি কখনও সুপ্রিম কোর্টের সওয়াল করেছে? এবার কুড়ি-দুই নয় ২২-০ তৃণমূলের পক্ষে করতে হবে। এবারে দুই কেন্দ্রেই পঞ্চাশ হাজারের বেশি করতে হবে।“

গঙ্গা ভাঙন নিয়ে অভিষেক বলেন, “একাধিকবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লিখিত চিঠি দিয়ে গঙ্গা ভাঙ্গনকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রকে একাধিকবার জানিয়েছে কিন্তু তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। গত নির্বাচনে আপনারা কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন। দু বছরে কংগ্রেসের কোনও সাংসদ বা প্রতিনিধি আপনাদের দাবি নিয়ে সরব হননি।“

–
–
–
