দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Election) আবহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সংসদকে নির্বাচনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে মোদি সরকার (BJP Government)। বিরোধী রাজ্যগুলিতে ভোটের আগে সংসদে নতুন করে পুরোনো মহিলা সংশোধনী বিল আনার চেষ্টা যেমন করেছিল মোদি সরকার, এবার ভোটে জিততে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ (DA)-র ঘোষণা কেন্দ্রের সরকারের। জানুয়ারিতে যে ডিএ ঘোষণার কথা ছিল, তা এবার একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে ঘোষণা করল কেন্দ্রের সরকার।

শনিবার ঘোষণা করা হল, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য কেন্দ্র সরকার মহার্ঘভাতা বা ডিএ ২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত অক্টোবরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ বাড়িয়ে ৫৮ শতাংশ করা হয়েছিল। এবার ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধিতে ডিএ দাঁড়াল ৬০ শতাংশ। যা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে, ফলে বর্তমান কর্মী ও পেনশনভোগীরা গত কয়েক মাসের বকেয়া টাকাও একসঙ্গে পাবেন। আরও পড়ুন: মিথ্যাচার ট্রাম্পের! ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান, ফিরল ৪ ভারতীয় জাহাজ

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই বৃদ্ধি কর্মীদের বেতনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যেমন, ১৮,০০০ টাকা মূল বেতনের কর্মীর মোট বেতন বেড়ে প্রায় ২৮,৮০০ টাকায় পৌঁছতে পারে। ঠিক একইভাবে ২৯,২০০ টাকা মূল বেতনের ক্ষেত্রে তা বেড়ে প্রায় ৪৬,৭২০ টাকা হতে পারে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ক্ষেত্রে ২.৫ লক্ষ টাকার মূল বেতন ৪ লক্ষ টাকার গণ্ডিও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী, বছরে দু’বার – জানুয়ারি ও জুলাই মাসে ডিএ বৃদ্ধি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এবার জানুয়ারিতে নিয়ম মতো ডিএ-র ঘোষণা করেনি কেন্দ্রের সরকার। তা যে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে ঘোষণার জন্য তোলা রয়েছে, সে আন্দাজ এক শ্রেণির রাজনীতিক করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। জানুয়ারির ডিএ ঘোষণা করা হল এপ্রিলের মাঝামাঝি, যখন বাংলা, তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন বাকি রয়েছে।

জানুয়ারির ডিএ দেরিতে দেওয়া নিয়ে অর্থ মন্ত্রকের নতুন নিয়মের দোহাই দিয়েছিল মোদি সরকার। পে কমিশনের জন্য যে কমিটি কাজ করছিল, সেই সিদ্ধান্ত দেরিতে হওয়ায় আটকে ছিল ডিএ, জানানো হয়। তবে ডিএ ঘোষণা হওয়ার পরে পে কমিশন সংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তাই এই ডিএ বৃদ্ধির মধ্যেই জোরদার হচ্ছে অষ্টম পে কমিশন গঠনের দাবি। কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ন্যাশনাল কাউন্সিল- জয়েন্ট কনসাল্টেটিভ মিশনারি সরকারের কাছে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৯,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বছরে ৬% ইনক্রিমেন্ট, ন্যূনতম ৩০% বাড়ি ভাড়া ভাতা, পুরনো পেনশন স্কিম চালুর দাবি-সহ একাধিক সুপারিশ জমা দেওয়া হয়েছে।

–

–

–
–
–
