দিনভর দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার সেরে বিকেলে নিজের ভবানীপুর বিধানসভায় কর্মিসভা করলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের এই কর্মিসভায় একসঙ্গে একাধিক বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন তিনি। নেত্রীর কথায়, আমি এই লড়াই লড়ে নেব শেষ দিন অবধি। আমার সিকিউরিটির বাড়িতে রেইড মানে, আমাকে খুন করার চক্রান্ত। আমি জানি জন্মিলে মরিতে হবে। কিন্তু এই লড়াই আমাদের লড়তে হবে। এই ভোটে কী চলছে দেখেছেন। আমার দলের সোশ্যাল মিডিয়ার কাজ যারা করে তাদের কাছে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমার আইটি যারা দেখে তার বাড়িতে আইটি রেইড করেছে। আমার নিরাপত্তা দেখে যে তার বাড়িতেও আইটি রেইড। আমার প্রার্থীর বাড়িতেও আইটি রেইড হয়েছে ১৬ ঘণ্টা ধরে। আপনারাই ভুল এই ভাবে ভোট হয়? ইডি, সিবিআই দিয়ে প্রতিদিন রেইড করছে। নেত্রীর সংযোজন, আমি প্রতিবার কমিউনিটি করি। আমি সেটাই করছি। যাঁরা কর্মীরা আছেন তাঁরা এলাকায় প্রচারে থাকুন। সব ক’টা ওয়ার্ড ভিত্তিক সভা ও কর্মসূচি করব আমি। আমি সমস্ত কমিউনিটির মানুষকে শ্রদ্ধা করি। আমি সকলের কাছে আমার সমর্থন চাইছি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরশু একটা বিল নিয়ে আসল। আসলে তা ডিলিমিটেশন করার বিল। দেশ, রাজ্য, কমিউনিটি, কাস্টকে টুকরো টুকরো করতে এই বিল আনা হয়েছিল। আমাদের কিছু সাংসদ সেদিন যেতে পারেনি। শিবসেনা ও অন্যান্য কয়েকজন সাংসদ যেতে পারেনি। তাও বিজেপিকে আমরা আটকে দিয়েছি। গাড়ি চেকিংয়ের নাম করে কী করছে? কাল শুনলাম রাশিয়ান দূতাবাসের গাড়ি আটকে পরীক্ষা করছে। এক টেলিভিশন অভিনেত্রীর গাড়ি আটকে কী করেছে আপনারা ভাবতে পারবেন না। দেশের সমস্ত বাহিনী নিয়ে এসেছে। ইডি, সিবিআই নিয়ে এসেছে। এই ভাবে দেশ চলে নাকি? যারা বাইরে থেকে ভোট দিতে আসছে, তাদের বলছে গীতা ছুঁয়ে বলতে হবে বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। হাত-পায়ে শিকল বেঁধে যখন নিয়ে আসা হল গুজরাতে আমেরিকা থেকে তখন কিন্তু মোদি-শাহ কথা বললেন না কিছু। নেত্রীর কটাক্ষ, মোদিবাবুর সভা যখন হয় তখন শহরে হয়। ট্রেনে করে বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসে। আর ভিডিও তুলে বলে এত লোক আমি দেখিনি। এরা দেশ সামলাতে পারে না। কখনও আমেরিকার সাথে ঝগড়া, কখনও রাশিয়ার সাথে ঝগড়া।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটা জোর জবরদস্তি চলছে, স্পষ্ট কথা নেত্রীর। তিনি বলেন, ভোট হল মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। আর এখন ভোট করছে জোর করে অধিকার। সেনাকে নিয়ে মিটিং করেছে। আমি খবর পেয়ে গেছি। আরএসএস, বজরং দল, মাফিয়া, গুন্ডা সবাইকে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে। বলছে ঝুট, করছে লুঠ।
বাংলাকে কেন টার্গেট করল? মানে ওদের মনে ভয় আছে। ওদের আমি হারিয়ে দেব। পরশু হারিয়েছি। আগামী দিনেও হারিয়ে দেব। ওরা ভয় পাচ্ছে। আমার কাছে না আছে পয়সা, না আছে টাকা। না আছে হুন্ডি। সব প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলে দিলেন। আমি পর্যবেক্ষক বলব না, আমি কনজারভার বলব, তাদের নিয়োগ হল। ভোটার তালিকায় একই এপিক নাম্বারে, দুই জায়গার নাম রাখা হয়েছে। তারা ভোট দিতে যাবে। আপনাদের নজরে রাখতে হবে।

আমি সব ধর্ম অনুষ্ঠানে যাই। আমি সকলের সাথে থাকি। যাতে তারা খুশি হয়। আমি এটা বলতেই এসেছি। আমার আর কিছু বলার নেই। আপনারা সচেতন মানুষ, আপনারা বাকিটা বুঝে নেবেন। যা চলছে তা ঠিক হচ্ছে না। বিজেপি চলে যাবেই। এই ধরনের স্বৈরাচারী আচরণ চলবে না। ওরা ২০২৬ সালেই যাবে। ওরা মাইনরিটি হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন- TRP তুঙ্গে তবু বন্ধ হতে চলেছে আরও এক ধারাবাহিক?

_

_

_
_
_
_
