ধৃত বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বিরুদ্ধে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তুলল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর আগে এই দাবি করে তদন্তকারী সংস্থা।

ধৃত প্রোমোটারের কাছে থাকা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে ইডি। ২৫টি ভুয়ো সংস্থার সঙ্গে জয়ের জড়িত থাকার হদিশ পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ক্যালকাটা গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে জয়ের ভুয়ো সংস্থায় ৪০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ধৃতের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ১১০০ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন তিনি। তার মধ্যে চার মাসে ৫০০ কোটি টাকা নগদ জমা হয়েছে।
জয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে জেল হেফাজতের আবেদন করেছিল ইডি। আর জি কর হাসপাতালেই ছিলেন ধৃত অভিযুক্ত জয় কামদার। জেল হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ছিল ইডি। হাসপাতালেই ক্লোজ প্রক্সিমিটি ভিজিলান্স চাওয়া হয়। সেই আর্জি প্রেক্ষিতে বিচারক জানান, আরজি করে ইডির নজরদারিতে চিকিৎসাধীন থাকবেন অভিযুক্ত। নির্দিষ্ট সময়ে তাঁকে কোর্টে পেশ করতে হবে। না হলে ইডি আদালতে মেডিক্যাল রিপোর্ট পেশ করতে হবে। এদিন চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পরে দুপুরে জয়কে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। আদালতে ইডি দাবি করে, জমি কেলেঙ্কারি ও আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ধৃত জয় কামদারের সংস্থার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর দেড় কোটির লেনদেন হয়। পাপ্পুর স্ত্রীর নামে রেজিস্টার্ড কোম্পানির সঙ্গেও বেহালার প্রোমোটারের লেনদেন হয়েছে বলে ED সূত্রে খবর।

বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’র বালিগঞ্জের বাড়ি থেকে গত ১ এপ্রিল একটি সেভেন এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছিল গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। ইডি সূত্রে খবর, ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি গত ১৫ জানুয়ারি কেনা হয়েছিল সোনা পাপ্পুর স্ত্রী সোমা পোদ্দারের নামে। অশ্বিনী দত্ত রোডে জয় কামদারের অফিস থেকেই সেটি কেনা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র কেনার বিষয়ে প্রথমে সোমা জানিয়ে ছিলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এমনকী তাঁর নামে কোনও কোম্পানি বা ব্যবসার বিষয়েও অস্বীকার করেন তিনি।

এদিকে বাড়িতে হানা দেওয়ার পরে এবার কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে (Shantanu Sinha Biswas) সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সূত্রের খবর, তাঁর পুলিশ আধিকারিকের দুই পুত্রকেও তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, বেহালার প্রোমোটার ধৃত জয় কামদারের (Joy Kamdar) সঙ্গে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি (OC) শান্তনুর কোনও যোগাযোগ আছে কি না তা জানতেই তলব। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পু ও বেহালার প্রোমোটারের সঙ্গে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসির যোগাযোগ ছিল বলে ইঙ্গিত। শান্তনুর দুই পুত্রের সঙ্গেও জয়ের পরিচয় আছে। ধৃতের সঙ্গে তাঁদের কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তদন্ত করে দেখতে চায় ইডি।

–

–

–
–
–
