বেলডাঙা (Beldanga Violence) অশান্তি কাণ্ডে নিম্ন আদালতকে অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলো NIA। এই মামলার শর্তসাপেক্ষে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেছিল নিম্ন আদালত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা না মেনে অভিযুক্তদের জামিন দিয়েছে নিম্ন আদালত। এই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে, যা খতিয়ে দেখার পরই স্থির হবে ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (UAPA) ধারা বজায় থাকবে কি না।নিয়ম অনুযায়ী, ধৃতদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করতে পারিনি NIA। এই পরিস্থিতিতে জামিনের আবেদন করেন ধৃতদের আইনজীবী। ১০ হাজার টাকার বন্ডে ১৫ জনের শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করে আদালত। আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদে আত্মহত্যার চেষ্টা CRPF জওয়ানের

হাই কোর্টে NIA দাবি করে তদন্ত চলাকালীন এই ভাবে জামিন দিতে পারে না নিম্ন আদালত। সোমবার বিচারপতি অরুণ মাইতি ও ভাস্কর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যখন সুপ্রিম কোর্ট জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কলকাতা হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে, তখন কীভাবে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করল নিম্ন আদালত? এই অভিযোগে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত জানুয়ারি মাসে। ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই বেলডাঙা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ভিনরাজ্যে শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ধীরে ধীরে চরম আকার নেয়। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীরা রেল অবরোধের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কর্তব্যরত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করে। প্রথমে রাজ্য পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কলকাতা হাইকোর্ট মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। কেন্দ্রীয় সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল। এর মধ্যে ১৫ জন মুক্তি পেলেও বাকি ২০ জন অভিযুক্ত এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন।

–

–

–

–

–
–
–
