ভোট যত এগোচ্ছে ততোই বাংলায় বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। ”এখানকার সাংসদ যে সুনিশ্চিত করতে পারেনা যে নিয়ম মেনে ট্রেন চলবে সে আপনাদের উন্নয়ন দেবে কিভাবে?”, সোমবার বলরামপুর বিধানসভার বলরামপুর কলেজ ময়দানে তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর সমর্থনে জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এভাবেই বিজেপিকে (BJP) নিশানা করলেন। তিনি বলেন, ”আমি পুরুলিয়াতে জানুয়ারি মাসে এসেছিলাম। আমি একাধিকবার বলেছি যে এখানে যে সব ট্রেন চলে, বিশেষ করে এখন সরাসরি বলরামপুর হয়ে অযোধ্যায় ঢোকে কোন ট্রেন সময়ে ঢোকে না। হাওড়া চক্রধরপুর এক্সপ্রেস হোক, পুরুলিয়া এক্সপ্রেস হোক বা রূপসী বাংলা হোক কোন ট্রেন সময়ে ঢোকে না। হাওড়া চক্রধরপুর এক্সপ্রেস ভোর সাড়ে ৬টায় পুরুলিয়া ঢোকার কথা কিন্তু পরশুদিন পুরুলিয়ায় ঢুকেছে ১১.৪৩ অর্থাৎ ৫ ঘন্টার বেশি লেট। আমি আজ বললাম বলে দেখবেন কয়েকদিন সময়ে ট্রেন ঢুকবে। পুরুলিয়া এক্সপ্রেস রাত ১০টায় ঢোকার কথা। ১৮ তারিখ ঢুকেছে রাত ১২.৩৪ অর্থাৎ দুই ঘন্টা ২০ মিনিট লেট আর গতকাল ঢুকেছে রাত ১.৪৩ অর্থাৎ ৩ ঘন্টা লেট। এখানকার সাংসদ যে সুনিশ্চিত করতে পারে না যে নিয়ম মেনে ট্রেন চলবে সে আপনাদের উন্নয়ন দেবে কিভবে? মোদির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি আর তৃণমূলের গ্যারান্টি মানে লাইফটাইম ওয়ারেন্টি। তাই শান্তিরাম মাহাতোকে জেতান আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন। আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। সেটা আপনারা দেখেছেন। ৫ বছর ক্ষমতায় ছিল বিজেপি এখানে। সাংসদ ও বিধায়ক বিজেপির, কী পেয়েছে এখানে বাসিন্দারা। ১৬ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করেছেন, যদি একটা রাজ্যে করে দিতে পারেন তাহলে আমার চ্যালেঞ্জ থাকল আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।” আরও পড়ুন: রাতারাতি গ্রেফতার ১৩৫ জন ‘দাগি অপরাধী’

এরপরেই বিজেপির মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে তিনি বলেন, “এখানে আমাদের ফল খারাপ হওয়ার পরেও গত ২ বছরে ৮ হাজার গরিব মানুষকে বাড়ির টাকা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যার মধ্যে ১০ পয়সার কোনো অবদান নরেন্দ্র মোদির সরকার বা জ্যোতির্ময় মাহাতোদের নেই। বলরামপুর বিধানসভায় ৬৩ হাজার মায়েরা প্রতি মাসে লক্ষীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। বিজেপি বলছে তারা ক্ষমতায় এলে ৩ হাজার টাকা লক্ষীর ভাণ্ডার দেবে। মাথায় রাখবেন জিরো ওয়ারেন্টি। যারা নিজের দলের কর্মীকে চাকরি দিতে পারে না। বলেছিল ১৫ লাখ দেবে। কেউ পেয়েছেন? না। ২ কোটি চাকরি হবে – হয়েছে? না। মিথ্যের পর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি।” বিজেপির সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে তুলোধনা করে তিনি বলেন, ”জ্যোতির্ময় মাহাতোকে জিজ্ঞাসা করুন, ১২ বছর আগে রান্নার গ্যাসের দাম ৪০০ টাকা। এখন তা হয়েছে হাজার টাকা। কেন এমন হল? আমার চ্যালেঞ্জ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লিখেছিল, কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃত করতে। আজ তিন মাস হয়ে গেল জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর সরকার তা করেনি। আমি মিথ্যে বললে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুক।’’
আত্মবিশ্বাসী অভিষেক বলেন, “আজকের সভা বলে দিচ্ছে এই বলরামপুর থেকে তৃণমূলের জয় সময়ের অপেক্ষা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা খালি ৪ তারিখ হবে। সারা জীবন রাজনীতি করতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সাথে সময় কাটাতে পারেনি। ৫ মাস আগে নিজের অর্ধাঙ্গিনীকে হারিয়েছে। তাও আপনাদের পাশ থেকে সরেনি। এই হচ্ছে শান্তিরাম মাহাতো। সেই শান্তিরাম মাহাতোকে আমরা প্রার্থীপদ দিয়েছি। এখানে বানেশ্বর মাহাতো প্রার্থী ছিল। তাকে দেওয়া হল না। তাকে দিলে পঞ্চাশ হাজার ভোটে হারত। আর যাকে দাঁড় করিয়েছে তাকে দাঁড় করানোর ফলে আমি বিশ্বাস করি পাঁচ হাজার ভোট হলেও তৃণমূলের বাড়বে, কমবে না। জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। শান্তি দা বলছিল বলরামপুরের ১০-১৫ বছর আগে, বিশেষ করে ২০১১ সালে আমাদের সরকার প্রথমবার আসার আগে কি পরিস্থিতি ছিল এই বলরামপুর বিধানসভার। সকাল ১০টা গেলে পুলিশ স্টেশনে এত বড় তালা ঝুলতো, পুলিশদের আশ্রয় নিতে হতো পুলিশ থানায় বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে। আজকে সেই বলরামপুরে ২৪ ঘন্টা থানা তো খোলাই, রাত্রি ১২টা অব্দি ঝকঝকে তকতকে রাস্তাঘাটে বলরামপুরের মানুষ নিশ্চিন্তে, নির্দ্বিধায়, নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বলরামপুরের মাটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা আমাদের সব থেকে বড় সাফল্য।”

–

–

–

–

–
–
–
