বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নকল করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কিন্তু গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশে তো এই দৃশ্য দেখা যায় না। এই ঘটনার উল্লেখ করে বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিজেপির মুখে ঝামা ঘষলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

ঝাড়গ্রামের লালগড় সজীব সংঘ মাঠের জনসভায় মোদিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “গত পরশুদিন শুনলাম হেমন্ত সরেনের এই সভাই আসার কথা ছিল কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে একজন আদিবাসী জনজাতি মুখ্যমন্ত্রীকে এক ঘণ্টা ধরে তাঁকে অপেক্ষা করিয়েছে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিংয়ের পারমিশন দেওয়া হয়নি। প্রথমে ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তার জন্য হয়তো এই কাজটা করা হয়েছে কিন্তু পরে দেখলাম হেমন্ত সোরেনকে আটকে রেখে প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। এখানে এসে বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, বলে বাংলাকে গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বানাব। আমি গত ১৫ বছরে নরেন্দ্র মোদিকে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে কোথাও ঝাল মুড়ি খেতে দেখিনি। ঝালমুড়ি অবশ্যই কেউ খেতে পারেন, তাঁর খাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু যাঁরা বলেন বাংলার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ২০১১ সালের আগে যদি এই ঘটনা ঘটত দেশের প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার ঝাড়গ্রামে নামত না আকাশে চক্কর দিতে হত।“
জঙ্গলমহলে বাম আমলের মাও সন্ত্রাসের কথা মনে করিয়ে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “বেলা ১১-১২টার পরে মানুষ বেরোতে পারত না। থানা বন্ধ থাকত। সেখানে আমি মনে করি, যারা আমাদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছে রাজনৈতিক আক্রমণ করেছে- বিধির বিধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সবথেকে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। ঝাড়গ্রামে ২০১১ সালের আগে মানুষ ১১-১২টার পরে বাইরে বেরোতে পারত না, সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী এসে ঝাল মুড়ি খাচ্ছেন। এর থেকে বড় সাফল্য মা-মাটি-মানুষের সরকারের আর কিছু হতে পারে না।“

জঙ্গলমহলের পাশাপাশি, পাহাড়েও শান্তি বজায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সেনাপতি। বলেন, “যে দার্জিলিঙে ১৯৯১/৯২ এর পর কোনও মুখ্যমন্ত্রী পা রাখতে সাহস পাননি, কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যাননি, সেখানে গিয়ে আজ অমিত শাহ নির্বাচনী জনসভা করছেন। এই সাফল্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।“

এর পরেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্য কর্ম সংস্থান নিয়ে খোঁচা দেন অভিষেক। বলেন, “যে রাস্তা দিয়ে আপনি গাড়ি নিয়ে গেলেন সেই রাস্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তৈরি করেছে। যে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেলেন, সেই ফুটপাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তৈরি করা। যে দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেলেন সেই দোকানটাও বানিয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা মাটি মানুষের সরকার। যে ভাইটার দোকান থেকে তিনি ঝালমুড়ি কিনেছেন আমি সমাজ মাধ্যমে একটা ভিডিওতে দেখলাম তাঁর বাড়ি বিহারের গয়ায়। তো বিহারে যদি ডবল ইঞ্জিন সরকার হয় বিহারের যুবক-যুবতীকে ঝাড়গ্রামে এসে আসানসোল, কলকাতায়. শিলিগুড়িতে গিয়ে ঝাল মুড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে কেন?“
আরও খবর: নেতাজির বাণী স্বামীজির নামে! এই বিজেপিকে ভোটে জবাব দিন: যোগীকে নিশানা অভিষেকের

বিজেপি প্রার্থীকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, “এখানে বিজেপির যিনি প্রার্থী তার সম্বন্ধে তো আর বলার কিছু নেই সবই তো শুনেছেন আপনারা। নির্বাচনের আগে এক কোটি টাকা নিয়ে ধরা পড়েছিল। আর কালকে যে ভয়েস ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে এই ভয়েস ক্লিপ এর বিরুদ্ধে এফআইআর হবে। তার গলার সঙ্গে অডিও স্যাম্পেল টেস্ট করানো হবে। আগামী দিনের যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

–

–
–
–
