একের পর এক খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনায় চাপে বিজেপি (Bharatiya Janata Party) শাসিত গুজরাট (Gujarat)। দাহুদ জেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ৪০০-র বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। উন্নয়নের বড় বড় দাবি করলেও সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ ডবল ইঞ্জিন সরকার। বারবার খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনাই সেই ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে। বিয়ে বাড়ি থেকে হস্টেল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রতিবারই একই ছবি সামনে আসছে, অথচ কার্যকর পদক্ষেপের দেখা মিলছে না। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রচার যত বড়, বাস্তবে ততটাই দুর্বল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আর সেই গাফিলতির মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আরও পড়ুন: প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা যাবে অধ্যাপকদের! কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সিলমোহর আদালতের

দাহুদ (Dahod) জেলার আভলোদ (Avalod) গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়ায়। অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪০০-রও বেশি মানুষ। অনেকেরই বমি, ডায়রিয়া ও শারীরিক অস্বস্তির উপসর্গ দেখা দেয়, ফলে তড়িঘড়ি তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে স্বাস্থ্য দফতর তদন্ত শুরু করেছে, তবে ঠিক কোন খাবার থেকে বিষক্রিয়া হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব গুজরাটের এই জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গ্রামজুড়ে।
এর আগেও ৫ এপ্রিল আহমেদাবাদের (Ahmedabad) মেমনগরে (Memnagar) একটি মেয়েদের হস্টেলে (Hostel) খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা সামনে আসে। ৫৭ জন ছাত্রী বমি ও ডায়রিয়ার সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অসুস্থের সংখ্যা আরও বাড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। একই মাসে রাজপুরা (Rajpura) গ্রামেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে প্রায় ১০০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। জনপ্রিয় গুজরাতি খাবার সেভ খামানি (Sev Khamani) খাওয়ার পরই সমস্যা শুরু হয় বলে জানা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও ২০০-র বেশি মানুষকে চিকিৎসা করানো হয়।

এক মাসের মধ্যে একাধিক খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আদৌ কতটা সচেতন বিজেপি শাসিত গুজরাট? বারবার একই ধরনের ঘটনা সামনে আসলেও কেন নেওয়া হচ্ছে না কঠোর পদক্ষেপ? ফলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে রাজ্যজুড়ে।

–

–

–

–
–
–
