ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেয়ে ভোটের বাজারে ভাইরাল হয়েছে নরেন্দ্র মোদি। তবে এতে যে বাংলার উন্নয়নের ছবিটাই গোটা বিশ্বের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, এবার সেই দাবি তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মুখে। একদিকে মাওবাদী অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামে (Jhargram) ১৫ বছরের উন্নয়নের ছবি মোদি নিজেই তুলে ধরেছেন প্রকাশ্যে ঝাড়মুড়ির দোকানো দাঁড়িয়ে। আরেকদিকে ঝাড়মুড়ি বিক্রেতা যে বিহার থেকে পরিযায়ী শ্রমিক (migrant labour) হিসাবে বাংলাতেই কর্মসংস্থান (employment) পেয়েছেন, তাও প্রমাণ করলেন মোদি (Narendra Modi) নিজে। সেই সঙ্গে প্রমাণিত হল, বিজেপির বিহারে নয়, কর্মসংস্থান বাংলাতেই হয়, তাও প্রমাণ করে দিলেন অভিষেক।

বিগত ১৫ বছরে ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় যে পরিস্থিতি ছিল, আর আজ যা অবস্থা, পার্থক্যটা প্রমাণ করলেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনিই প্রচার করলেন ঝাড়গ্রামের উন্নয়ন। অভিষেকের দাবি, আজ থেকে চারদিন আগে আপনারা সবাই দেখেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী এসে ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। অনেকে সমালোচনা করছেন। কেউ ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করছেন। আমি বলি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) রাজ্য সরকারের সব থেকে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের নাম নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। যে ঝাড়গ্রামে ১৫ বছর আগে হেলিকপ্টার নামতো না। মানুষ দশটার পর বাড়ি থেকে বের হত না। সেখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে নির্দ্বিধায় দেশের প্রধানমন্ত্রী ঝাল মুড়ি খাচ্ছেন।
বাংলার এই উন্নয়নে যে বিজেপির বা নরেন্দ্র মোদির কোনও অবদান নেই, তাও রাজারহাট-গোপালপুরের প্রার্থী অদিতি মুন্সির প্রচার সভায় মনে করিয়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মনে করিয়ে দেন, যে রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে আপনি যাচ্ছেন সেই রাস্তা মা-মাটি-মানুষের সরকার তৈরি করেছে। যে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন সেই ফুটপাত ঝাড়গ্রাম পৌরসভা (Jhargram Municipality) তৈরি করেছে। যার দোকান থেকে ঝাল মুড়ি কিনে খাচ্ছেন সেই দোকানটাও মমতা ব্যানার্জির (Mamata Banerjee) সরকার দিয়েছে।

আরও পড়ুন : গুগল সার্চ ট্রেন্ডে সবাইকে ছাপিয়ে মমতা-অভিষেক: মোদি-শাহ-শুভেন্দু ত্রয়ী ধরাশায়ী

বাংলায় নির্বাচনের প্রচারের আগে থেকে বাংলায় কর্মসংস্থান নেই বলে রব তুলেছিলেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। নির্বাচন আবহে সেই দাবিতে শান দিয়েছেন দিল্লির নেতারা। আদতে বাংলায় এসে যে বিজেপি রাজ্যের যুবকরা কর্মসংস্থানের দিশা পায়, নিরাপত্তা পায়, তাও প্রমাণ করে দিয়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদিই। ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়িওয়ালার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, যে ছেলেটা ঝালমুড়ি বিক্রি করছে সে বলছে আমার বাড়ি গয়ায়, বিহারে। আমি বাংলায় থাকি না। যারা কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, বিহারে যদি কর্মসংস্থান হয় তাহলে বিহারের লোকেদের বাংলায় এসে কেন ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে? আমি প্রশ্ন করতে চাই। জিজ্ঞাসা করবেন, কোনও সদুত্তর নেই এদের কাছে। গত ১৫ বছরে আমাদের এখানে কর্মসংস্থান বেড়েছে। আর ভারতবর্ষে কমেছে।

–

–

–
–
–
