২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষের ওপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে আহত হলেন অন্তত ছ’জন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়িও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার নির্বাচনের নামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং বিজেপির উস্কানিমূলক রাজনীতির দিকে আঙুল তুলছে রাজনৈতিক মহল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোটগ্রহণ যখন শেষের পথে, তখন কোনো প্ররোচনা ছাড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষের বাড়ির ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয় এবং নিরপরাধ গ্রামবাসী ও মহিলাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের (বিজেপি) হয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পেরে এবং জনসমর্থন না পেয়েই বাহিনী পেশিশক্তি প্রদর্শন শুরু করে। এই ‘তাণ্ডব’ সহ্য করতে না পেরে মহিলারাও প্রতিরোধের সামনের সারিতে চলে আসেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যায় এবং উত্তেজিত জনতার ইটের ঘায়ে আহত হন বেশ কয়েকজন জওয়ান।
এবারের নির্বাচনে রাজ্যে প্রায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। সমালোচকদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক বাহিনী আসলে ভোটারদের সুরক্ষা দেওয়ার চেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি করতেই ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হাতিয়ার করে বুথ দখলের চেষ্টা বা ভোটারদের ভয় দেখানোর রণকৌশল নিয়েছে। এই ঘটনার জন্য সরাসরি গেরুয়া শিবিরকেই দায়ী করছে শাসক দল ও অন্যান্য বিরোধী পক্ষ। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিজেপির ‘ক্যাডার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে ঢাল করে বিজেপি বাংলায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বলেও অভিযোগ। ঘটনার পর এলাকা জুড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে। যদিও বীরভূম জেলা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

আরও পড়ুন- ‘আমি কি সন্ত্রাসবাদী?’ বাহিনীর তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ বাইরন ভোট না দিয়েই ফিরলেন বুথ থেকে

_

_

_

_
_
_
_
