সর্বকালীন রেকর্ড ভোট বাংলায়: প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, দাবি কমিশনের

Date:

Share post:

নজিরবিহীন নির্বাচনের সাক্ষী থাকল ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। গোটা রাজ্যে ১৫২ আসনে প্রায় প্রতি বুথে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন সাধারণ মানুষ। যার জেরে বাংলা তো বটেই, গোটা দেশের সর্বকালীন ভোটদানের (all time record polling) রেকর্ড ছাপিয়ে গেল এই দফার ভোটদানের হার (poll percentage)। সন্ধ্যার ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৯১.৫২ শতাংশ। তবে এই ভোট হল অ্যাপালেট ট্রাইবুনালে (Appellate Tribunal) বিচারাধীন বাংলার ২৭ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়েই। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে ২০১১ সালে বাংলায় সামগ্রিক ভোট দানের হার ছিল ৮৪.৬ শতাংশ।

সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO, Manoj Agarwal)জানান, ভোটের শতাংশ বেশি হওয়ার কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটা হতেই পারে। ভোটের সকাল থেকে বুথগুলিতে যে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, সেখানে যথেষ্ট পরিমাণ আতঙ্ক দেখা গিয়েছে এসআইআর (SIR) নিয়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কার কথা শোনা যায়, এসআইআরে ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। এবার ভোট না দিলে ফের তালিকা থেকে নাম বাদ চলে যাবে। কার্যত এই আশঙ্কা গোটা বাংলার মানুষকে কতটা গ্রাস করেছে, তা ভোটের সকালে দীর্ঘ লাইনেই প্রমাণিত। তার প্রভাবও যে ইভিএমেও পড়ছে, এমনটা মত রাজনৈতিক মহলের।

সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৪৪৩৭৬ বুথের (polling booth) মধ্যে ৩৯৫৫৮ বুথে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মনোজ আগরওয়াল (CEO, Manoj Agarwal)। বাকি ৪৮৩৮ বুথে ভোটাররা লাইনে রয়েছে যেখানে, সেখানে স্লিপ দেওয়া হয়েছে। লাইনের ভিডিও করে রাখা হয়েছে। সেই সব বুথের ভোটদান প্রক্রিয়া শেষ হলে তবে রাজ্যে প্রথম দফার সম্পূর্ণ ভোট শতাংশ জানানো সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে অন্তত রাত ১০টার আগে সেই শতাংশ জানা সম্ভব হবে না বলেই আশঙ্কা। প্রথম দফার এই ভোটে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে প্রায় ৩.৬ কোটি ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।

একদিকে রাজ্যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, অশান্তির ঘটনা বিক্ষিপ্তভাবে দু-একটি হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাও শূন্যে নেমে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদে অশান্তিতে শীর্ষে এজেইউপি নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর কনভয়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বীরভূমের লাভপুরে বিজেপির এজেন্টের মাথা ফাটার ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ দিনাজপুরে বুথে (pollig booth) তৃণমূলের এজেন্টদের ধাওয়া করতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে হেনস্থার শিকার হন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার। আসানসোলে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আবার অভিযোগ উঠেছে কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরও। বাঁকুড়ার কোতুলপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আবার বীরভূমের খয়রাশোলে তৃণমূলের বোতাম টিপলে বিজেপিতে ভোট পড়ার অভিযোগ নিয়ে ইটবৃষ্টির ঘটনা ঘটে। আহত হন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

তবে নির্বাচন কমিশনের (ECI) দাবি, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ। সিইও মনোজ আগরওয়াল নির্বাচন শেষে জানান, সাধারণ যে ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটে তেমন কিছু ঘটেনি। কোনও খুন বা গুরুতর আহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের ভূমিকাও ছিল সন্তোষজনক। কোনও থানার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। ছোটখাটো আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ঘটেছে সব থানার বাইরে। মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন। মানুষ বেরিয়ে এসে নিজেদেরভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন সব রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনের সমস্ত অংশীদারদের, যাদের কারণে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তাঁদের।

আরও পড়ুন : প্রবল গরমে ভোট: প্রাণ গেল আরও ৪ ভোটারের

যদিও নির্বাচনে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগও কম হয়নি। সকাল থেকে ভোট গ্রহণের শুরুতেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ইভিএম (EVM) বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। যার জেরে প্রবল গরমে সমস্যায় পড়েন ভোটাররা। আবার শিলিগুড়ি থেকে বীরভূম, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট না দিতে পারারও অভিযোগ জানান। তাঁদের ভোট পোস্টাল ব্যালটে পড়ে যাওয়ারও অভিযোগ জানান। এছাড়া কিছু এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো, প্রক্সি ভোট এবং ইভিএম নিয়ে সমস্যার অভিযোগও জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে আদৌ এই প্রথম দফার নির্বাচনে পাস করেছে এমনটাও বলা যাচ্ছে না।

spot_img

Related articles

দুবরাজপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘আচরণে প্রশ্নের মুখে কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষের ওপর...

‘আমি কি সন্ত্রাসবাদী?’ বাহিনীর তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ বাইরন ভোট না দিয়েই ফিরলেন বুথ থেকে

নিজের পাড়ার বুথে ভোট দিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ না করেই ফিরে এলেন সাগরদিঘির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক...

‘নিজে বাঁচুন, অন্যকেও বাঁচান’, প্রথম দফার ভোটের শেষে জৈন মন্দিরে সম্প্রীতির বার্তা মমতার

বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি বাদ দিলে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। আর...

সাঁজোয়া গাড়ি থেকে এজেন্সি! বাংলার ওপর এত রাগ কেন? কেন্দ্র-কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার

‘বাংলার সাথে গদ্দারি করব না, জন্মেছি বাংলায়, মরবও বাংলায়’— এই স্লোগানকে সামনে রেখেই বৃহস্পতিবার ফের দিল্লিকে নিশানা করলেন...