আসানসোলে কংগ্রেস (Asansol Crime) কর্মী খুনে আটক করা হল তিনজনকে। শুক্রবার রাতে কংগ্রেস কর্মীর খুনের ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে শনিবার সকালে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির উপর হামলা করে খুন করেছে দুষ্কৃতিরা। দেবদীপ আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনায় আসানসোল উত্তরের কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির অভিযোগ তুলেছিলেন ঘটনার পিছনে হাত আছে তৃণমূলের। কিন্তু কমিশনকে দেওয়া রিপোর্টে ডিইও জানিয়েছে, এটা কোনও রাজনৈতিক হিংসা নয়। রাস্তায় ঝামেলার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবাররাতে দেবদীপ যখন বাড়ি ফিরছিলেন তখন একদল দুষ্কৃতী আচমকাই চড়াও হয় তাঁর উপর। বেধড়ক মারের জেরে মৃত্যু হয় তাঁর। শনিবার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয়রা। মৃতদেহ আসানসোল দক্ষিণ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তবে এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতুণ্ডির অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, “আমি যে আবাসনে থাকি, সেখানেই দেবদীপ থাকে। আবাসনের সকলের মতো ও আমার হয়ে প্রচার করেছিল। শুক্রবার রাতে স্ত্রী, বাচ্চাকে নিয়ে গাড়িতে ফিরছিল। একদল দুষ্কৃতী পথ আটকায়। সবাই গাড়ি থেকে নেমে এলে স্ত্রী ও বাচ্চাকে গাড়িতে উঠে যেতে বলে ওরা। দেবদীপের সঙ্গে বচসা হয়। তাতে ও আমার নাম করে জানায় যে নালিশ করবে। আমার নাম শুনেই ওরা রেগে গিয়ে ওকে মারতে থাকে। লাথি, ঘুসি মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়। তাতে ও মারা যায়। রাতদুপুরে বেরিয়ে এসব কাজ ছাড়া কিছু করতে জানে না। এই ঘটনার বিহিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ করে যাব।” আরও পড়ুন: আউশগ্রামে অভিনব প্রচারে গিয়ে বিপাকে প্রার্থী! গাড়ি ছেড়ে পালাল গরু
অন্যদিকে জেলা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাশু অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, “কংগ্রেসের এখানে এমনও জোর নেই যে তাকে সরানোর পরিকল্পনা করতে হবে। আর তৃণমূলের কি কাজ নেই, একজন কংগ্রেসের হয়ে ভোটপ্রচার করেছে বলে তাঁকে খুন করে দেবে? আসলে কংগ্রেসের হাতে আর কোনও ইস্যু নেই। তৃণমূলকে বদনাম করতে এসব বলছে। তবে যা ঘটেছে, সেটা অত্যন্ত জঘন্য। আমরা পুলিশের কাছে দাবি করছি, যথাযথ তদন্ত হোক।” ঘটনার পরেই নির্বাচন কমিশন ডিআইও-এর কাছে ঘটনার রিপোর্ট তলব করে। তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

–

–

–

–

–
–
–
