এবারের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) প্রচারের জন্য হাতে মাত্র আর ২৪ ঘণ্টা সময়। রবিবার তাই প্রচারের ঝড় বাংলা জুড়ে। এদিন দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার মাদ্রা ফুটবল গ্রাউন্ডে (বৈদ্যপুর) জনসভা করেন তৃণমূলে (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। আর সেই সভা থেকেই বিরোধী বিজেপি প্রার্থীকে ‘চাল চোর’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূলের সেনাপতি। তাঁর কথায়, বিজেপি (BJP) প্রার্থী গোপাল চট্টোপাধ্যায়কে (Gopal Chatterjee) সবাই ‘চাল চোর গোপাল’ বলে ডাকে।

বৈশাখের দাবদাহ উপেক্ষা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সভায় ভিড় উপচে পড়ে। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে প্রবল নিশানা করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। বিরোধী প্রার্থী সম্পর্কে তিনি জানান, “২০২০ সালে কাটোয়ার কারুলিয়া গ্রামে সেখানে রাতের অন্ধকারে রেশনের বরাদ্দ চাল পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন রেশন ডিলার রুনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামী বসন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের যিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, সেই গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের মামা-মামী ওই রেশন ডিলাররা। যখন সরকারি অফিসাররা এর তদন্ত করেছিলেন গোপাল চট্টোপাধ্যায় এই চুরির অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়। তারপর থেকে সবাই ওঁকে ‘চাল চোর গোপাল’ বলে ডাকে।” এছাড়াও নবদ্বীপ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকতা করতে গিয়ে গোপাল চট্টোপাধ্যায় কোনদিন স্কুলের ধারে কাছে যাইনি বলে অভিযোগ অভিষেকের।
তৃণমূল সেনাপতির অভিযোগ, “গোপালের বাড়ি কাটোয়ার কারুলিয়া গ্রামে কিন্তু তিনি ভোটার আইডি কার্ড পরিবর্তন করে পূর্বস্থলীতে প্রার্থী হয়েছেন। তার লেখা দেওয়ালে বিজেপি কর্মীরা গোবর লেপে দিচ্ছে। এই হচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর অবস্থা। কাটোয়া বিধানসভায় যিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তাঁকে নিয়ে এলাকায় দলের বিজেপির একটা অংশ ক্ষুব্ধ, অনেকে প্রচারে নামেনি। ২০২৪ লোকসভায় এই বিজেপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল টাকা নয়ছয় করার। এমনকী এই বিজেপি প্রার্থীর বাড়ি ঘেরাও করেছিল বিজেপির কর্মীরাই।”

বামেদের নিশানা করে অভিষেক বলেন, “এখন জার্সি পাল্টে বাম থেকে রাম হয়েছে। নতুন বোতলে পুরনো মদ। সিপিএমের হার্মাদগুলোকে বলে রাখি যদি ভাবো কাস্তে হাতুড়ি ছেড়ে পদ্ম নিয় প্রচার করে আবার সিপিএমের অনুন্নয়নের সন্ত্রাসের কালো দিন পূর্ব বর্ধমান জেলায় ফিরিয়ে আনবে চার তারিখের রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে গ্রামে একটু পরে ডিজেও বাজবে। তৈরি থেকো।”

দলীয় প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী সম্পর্কে তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানান, “এখানে বসুন্ধরাকে প্রার্থী করার আগে আমি একটা শর্ত দিয়েছিলাম, যে ৭ দিনের মধ্যে চারদিন এখানেই থাকতে হবে। তোমার কার্যালয় থেকে শুরু করে বাড়ি এখানেই করতে হবে। তবেই কিন্তু দল তোমায় সুযোগ দেবে। আর যদি আপনাদের কোনও অভাব অভিযোগ থাকে, জেতানোর পর তৃণমূলের যেকোনও প্রার্থী যদি মাথা নীচু করে মানুষের জন্য কাজ না করে- পরের নির্বাচনের তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী পদ দেবে না। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলে যাচ্ছি। সে যত বড়ই নেতা হোক না কেন মানুষের উপর কেউ নয়।”

–

–

–
–
–
