বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ। বুধবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা করেন। সাফ জানিয়ে দেন, এবার বিজেপি পঞ্চাশ পার করতে পারবে না। বাংলার মানুষ তাদের প্রত্যাখান করছে।

এদিন বৈঠক থেকে বেলেঘাটার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেস ২৩৫-র বেশি আসন নিয়ে ফিরবে, যদিও কত আসন, সেটা আরও কিছুক্ষণ পর বোঝা যাবে। ২৩৫-র বেশি আসন নিয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আবার ফিরছেন। আমরা বাংলার মা-বোনেদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিচ্ছি। যত বেশি পার্সেন্টেজ অফ ভোট, তৃণমূলের তত জোরালো প্রত্যাবর্তন। এটা সরল পাটিগণিত। তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে এবং বিজেপি হারছে এটা বিজেপি জানে। সেই জন্য ন্যাক্কারজনকভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হল, ইলেকশন কমিশনকে ব্যবহার করা হল।’’
এদিন অভিযোগ করা হয়, ‘‘দিল্লির জমিদারের লেঠেল বাহিনী হিসেবে গুন্ডামি করল কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাংশ একটা বড় অংশের জায়গায়। একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাচ্চা এবং মহিলাদের গায়ে হাত তুলেছে। বহু জায়গায় যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস জিততে চলেছে বিপুলভাবে, সেখানে ভোটটা স্লো করিয়ে দিয়েছে। মানুষকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে হয়রান করা হয়েছে। নিশ্চিত পরাজয় বুঝে, ন্যাক্কারজনকভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে আক্রমণ করিয়েছে সেটা কখনও সাতগাছিয়ায় কখনও উদয়নারায়ণপুরে বা ফলতায়।’’

কুণাল ঘোষ এদিন ক্ষোভ উগরে জানান, ‘‘সাতগাছিয়ায় বাচ্চাকে মেরেছে। উদয়নারায়ণপুরে ৮১ বছর বয়স্ক পূর্ণচন্দ্র দলুই মারা গিয়েছেন। ফলতা বিধানসভায় হিন্দু মহিলাদের ওপর বর্বরোচিত আঘাত হেনেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে। এই বিজেপি আবার হিন্দু হিন্দু করে। হিন্দু মহিলাদের ওপর ‘ব্রুটাল’ এট্যাক করেছে। বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল৷ কিন্তু বাংলার মা-বোনেরা সর্বত্র প্রতিরোধ করেছে৷ যতই করো হামলা আবার জিতবে বাংলা। বাংলার গরিমাকে অটুট রাখতে দলে দলে মা-বোনেরা বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন। বিজেপি লেঠেল বাহিনী দিয়ে হামলা করিয়েছে। মহিলাদের গায়ে হাত দিয়েছে, একজন বৃদ্ধের মৃত্যু হল, শিশুকে মেরেছে। হিংস্র, নখ-দাঁত বের করেছে। তারপরেও তৃণমূল কংগ্রেস জানাচ্ছে পঞ্চাশের বেশি পার করতে পারবে না বিজেপি, গতবারের থেকে কমবে। পঞ্চাশ পেরোতে পারবে না। মানুষ সর্বাত্মকভাবে ওদের প্রত্যাখান করেছে। ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমানে উত্যক্ত করে গেছেন। বিজেপির তো লোকজন নেই সারাক্ষন গুন্ডামি করিয়ে গেল শুধু।’’

এরপরেই বাংলায় দিকে দিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যাচার, অতিসক্রিয়তার একটি ভিডিও দেখিয়ে শশী পাঁজা বলেন, ‘‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলার মাটিতে আমরা চরম বর্বরতা দেখলাম। নির্লজ্জভাবে ইসি, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নামিয়ে অত্যাচার করেছে৷ সারাদিন ধরে মানুষকে আজ অপমান করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ বিজেপি মাঠে-ময়দানে ছিল না৷ ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ ৮১ বছরের বৃদ্ধ ভোট দিতে গেছে, তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গেছেন। তিনি ভোট দিতে যাচ্ছেন, সেখানে মার খেয়ে মৃত্যু হয়ে গেল। ভাবাই যায় না! ঘটনাটা উদয়নারায়ণপুর, ২৪৫ নম্বর বুথ। বুথ নম্বর ১১৬, সাতগাছিয়ায় বাচ্চাকে পর্যন্ত লাঠিপেটা করেছে৷ এতটাই অমানবিক! নিশ্চই তাঁদের এই ধরণের কথা বলা হয়েছে। ফলতা ১৮৬ নং বুথে হিন্দু মহিলা লাঞ্ছিত, কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে৷ গত ভোটে একই ঘটনা ঘটিয়েছিল শীতলকুচিতে৷ বাংলার মানুষ আজ অপমানিত৷ সারাদিন ধরে বাংলার মানুষকে অপমান করেছে। কুকুর বেড়ালের মত আচরণ করেছে। সেনাকে আমরা সম্মান জানিয়েছি কিন্তু আজ তাঁদের দিয়ে যে কাজ করানো হয়েছে সেটা চরম নিন্দনীয়। শেষ কথা বাংলার মানুষ বলবে৷ এই বিজেপি বহিরাগতদের মানুষ নিজেদের জায়গা দেখাবে। আজ যা হয়েছে, সেটা ভাল হয়নি৷ আমরা এটা ক্ষমা করব না। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভোটে জিতবেন৷ এই বিরোধী দলনেতাই গত বিধানসভা ভোটে বলেছিল ২০০-র উপর হবে৷ ওঁ একটা ফ্লপ জ্যোতিষী৷’’

আরও পড়ুন – লুঙ্গি পরায় ভোটদানে বাধা কেন্দ্রীয় বাহিনীর! পোশাক দিয়ে ভোটারের বিচারে ক্ষুব্ধ মমতা

_

_
_
_
_
