হজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পুণ্যার্থীকে (Hajj pilgrims) অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জমা করা নির্দেশ কেন্দ্রের (Govt of India)। সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের (Ministry of Minority Development) সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ মে-র মধ্যে এই অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত এই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র সমালোচনা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।

কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রকের অধীনস্থ হজ কমিটির (Hajj Committee) জারি করা এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক স্তরে বিমানের জ্বালানির খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে হজ যাত্রার ব্যয়ের উপর। সেই কারণেই নাকি এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে সংখ্যালঘুদের উপরে। এরপরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যুদ্ধ পরিস্থিতি তো আজ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। তাই গোটা বিষয়টা যদি আগে থেকেই জানা ছিল মোদি সরকারের, সংখ্যালঘু পূর্ণ্যার্থীদেরও আগে থেকে কেন জানানো হল না? কেন শেষ মুহূর্তে এভাবে আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে? মন্ত্রী জানান, উড়ান সংস্থাগুলি প্রথমে পুণ্যার্থী পিছু ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার অতিরিক্ত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে তা কমিয়ে নাকি প্রায় ১০০ ডলারে আনা হয়েছে। তাই এই অতিরিক্ত টাকা দিতেই হবে। পরিস্থিতির চাপে এটি অনিবার্য। এরপরই কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন বিরোধীরা। তাঁদের কথায়, হজযাত্রার একেবারে প্রাক্কালে হঠাৎ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা অন্যায্য। সারা জীবন সঞ্চয় করে মানুষ এই হট যাত্রা করতে চান। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা জোগাড় করে তা জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রশ্নাতীতভাবে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে অবিচার।
ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা বলছে, কেন্দ্র যতই পশ্চিমের যুদ্ধের দোহাই দিক না কেন, এটা অনেকটা হিন্দুদের তীর্থযাত্রার উপর মুঘল সম্রাটদের জিজিয়া কর চাপানোর মতো সিদ্ধান্ত। মোদি সরকার যে কতটা সংখ্যালঘু বিরোধী, এ ঘটনায় ফের তা প্রমাণিত।

–

–

–

–

–
–
–
–

