তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগই সত্য প্রমাণিত হল। বৃহস্পতিবার সাখওয়াত মেমোরিয়ালের সামনে হাঙ্গামা করা যুবক এসেছেন রাজ্যের বাইরে থেকেই। তিনি নিজেই স্বীকার করেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নন। দীপ প্রজাপতি নামে ওই যুবক নাকি আত্মীয়ের বেড়াতে বেড়াতে এসেছেন। আর তারপরেই এইসব দেখে তিনি বিক্ষোভে শামিল হয়ে গিয়েছেন! উল্টে তাঁর দাবি, তিনি নাকি এরকম করতেই পারেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের মোবাইল ফোনে এই যুবকের ছবি দেখিয়ে মমতা জানিয়েছিলেন, বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে ইভিএম (EVM) কারচুপি করতে চাইছে বিজেপি (BJP)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কায় ভিডিও বার্তায় তৃণমূল কর্মীদের স্ট্রংরুম (Strong Room) পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন দলনেত্রী। স্ট্রংরুমের ভিতরে অবাঞ্চিত উপস্থিতির কথা জানতে পেরে বৃষ্টি মাথায় নিজেই রাত ৮ টার পরে বিভিন্ন স্ট্রং রুমে যান তৃণমূল সুপ্রিমো। সাখওয়াত মেমোরিয়ালের সামনে পাল্টা বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। স্ট্রংরুম থেকে বেরিয়ে গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করে মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপির বিক্ষোভে হাজির ছিলেন এক গুজরাটি যুবক। মোবাইলে একটি ভিডিও দেখিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “গণনাকেন্দ্রের বাইরের এলাকা ঝগড়ার জায়গা নয়। যে যুবক স্লোগান দিচ্ছেন, চেঁচামেচি করছেন, তিনি তো গুজরাট থেকে এসেছেন। এটা আমার জায়গা। চাইলে আমি ১০ হাজার লোক জড়ো করতে পারি। এটা আমার জায়গা।”
মমতা (Mamata Banerjee) যাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন তিনি আসলে কে? তিনি কি সত্যিই বহিরাগত? ক্যামেরার সামনে ওই যুবক জানান, তাঁর নাম দীপ প্রজাপতি। তিনি রাজ্যের বাসিন্দা নন। তবে পাল্টা তাঁর দাবি, “এটা ভারত। আর আমি এই দেশের নাগরিক। আমি যেখানে খুশি যেতে পারি। পশ্চিমবঙ্গে আমার আত্মীয়র বাড়ি। আমি এখানে বেড়াতে এসেছি। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা আমি ভালো করেই জানি। এই পরিস্থিতি দেখে প্রতিবাদ করেছি।” যদিও তিনি কোথাকার বাসিন্দা- এই প্রশ্ন এড়িয়ে যান দীপ। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি বিজেপির কর্মী-সমর্থক? দীপ প্রজাপতি জানান, তিনি কোনও দলের লোক নন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বাংলায় যখন নির্বাচন, কমিশনের কড়াকড়ি চলছে- সেই অবস্থায় হঠাৎ আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে কেন এলেন দীপ? কোন রাজ্যের বাসিন্দা তিনি সেটা বলতে তাঁর আপত্তি কোথায়? তিনি যেখানে থাকেন, সেখানেও কি এরকম বিক্ষোভ দেখলে সামিল হয়ে যান? যদি বিক্ষোভে সামিল হওয়ার তাঁর ইচ্ছে থাকে, তাহলে স্টংরুমের বাইরে তো তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরাও প্রতিবাদ করছিলেন- তিনি সেখানে না গিয়ে বিজেপি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভিড়লেন কেন? এর কোনও প্রশ্নের উত্তরই ছিল না দীপ প্রজাপতির কাছে। তবে তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ যে সত্যি- বহিরাগত নিয়ে এসে বাংলায় অশান্তি সৃষ্টি করছে বিজেপি- সেটা আরও একবার প্রমাণিত হল।

–

–

–

–
–
–

