বিধানসভায় প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল ঘটাল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখে পরিষদীয় দলের নেতৃত্বে আনা হয়েছে বর্ষীয়ান রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তবে শুধু অভিজ্ঞতা নয়, তৃণমূলের এবারের নয়া কমিটিতে সবথেকে বড় চমক নারী ক্ষমতায়নের প্রতিফলন। এই প্রথম বিধানসভায় উপবিরোধী দলনেতা হিসেবে একসঙ্গে দুই মহিলা মুখকে সামনে আনল ঘাসফুল শিবির।

তৃণমূল সূত্রে খবর, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন বালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী শোভনদেব দলের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর থেকে জয়ী হলেও পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সেই আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর উপনির্বাচনে খড়দহ থেকে জিতে তিনি মন্ত্রিসভায় কৃষি দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিপুল ব্যবধানে জিতে তিনি আবারও নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন।

শোভনদেবের পাশাপাশি বিধানসভায় পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ হাকিমকে। তবে রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে উপবিরোধী দলনেতা পদের দুই নাম নিয়ে। ধনেখালি কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্র এবং চৌরঙ্গী কেন্দ্রের বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, সংসদে যে মহিলা বিল নিয়ে সওয়াল করছে বিজেপি, তারা যে আদৌ মহিলাদের ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দেয় না, বাংলায় প্রথম দিনের শপথে তা প্রমাণিত। শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র একজন মহিলা প্রতিনিধি। অথচ তৃণমূল কংগ্রেস যে প্রথম থেকেই মহিলা ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী, রাজ্যের বিরোধী দলে এসেও তা প্রমাণ করল তৃণমূল। তাই বিধানসভায় তাদের চার পদাধিকারীর মধ্যে ২ জনই মহিলা প্রতিনিধি।

আরও পড়ুন – রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল! ব্যাপক বদলি সিএমও-সহ ৪৬ দফতরে

_

_

_
_
_
_

