শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অগণিত মানুষের উপস্থিতিতে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথম দিনটি তিনি উৎসর্গ করলেন শ্রদ্ধা নিবেদন ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার মধ্য দিয়ে। ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে এদিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরুকে প্রণাম জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এটিই তাঁর প্রথম ঠাকুরবাড়ি সফর। সেখানে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির…। শুভেন্দুর দাবি, এবার প্রকৃত উন্নয়নের পথে হাঁটবে পশ্চিমবঙ্গ।
সদ্য দায়িত্ব নেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বাংলায় এক নতুন জাগরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, কবিগুরুকে প্রধানমন্ত্রী প্রণাম জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দিলেন এবং আমরা দায়িত্বভার নিলাম।

ঠাকুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু সোজা চলে যান তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে। সেখানে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস এবং তাতে শ্যামাপ্রসাদের অনবদ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বলেই তিনি বিশ্বাস করেন এবং আগামী দিনে মন্ত্রিসভা ও বিধানসভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করবেন। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

সন্ধ্যা গড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রধান কার্যালয়ে। সেখানে স্বামী প্রণবানন্দের শয়নকক্ষে মাথা ঠেকিয়ে আশীর্বাদ নেন তিনি। সঙ্ঘের মহারাজদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, ২০১৩ সাল থেকেই এই আশ্রমের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। দিলীপ মহারাজ ও কার্তিক মহারাজকে তিনি নিজের অভিভাবক এবং পরামর্শদাতা মনে করেন। তাঁর মতে, রাজ্যে রাষ্ট্রবাদ গঠন ও হিন্দু জাগরণের ক্ষেত্রে ভারত সেবাশ্রম সংঘের আদর্শ ও আশীর্বাদ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

রাজপাটের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক তৎপরতাও শুরু করে দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শপথের পরই ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের অস্থায়ী তাঁবুতে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন শুভেন্দু।

এদিনও কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের জয়ের নেপথ্যে দৈব কৃপার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কালীঘাটের মায়ের আশীর্বাদ সবসময় তাঁর সঙ্গে ছিল। প্রথম দিন পুজো দিতে গিয়ে মায়ের পা থেকে একটি পদ্মফুল তাঁর হাতে পড়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সেদিনই বুঝেছিলাম মা কালীর আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে আছে। এক ব্যস্ততম দিনে প্রশাসনিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজের ইনিংস শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

আরও পড়ুন – অভিজ্ঞতায় আস্থা, নেতৃত্বে নারী শক্তি! বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব, ডেপুটি অসীমা-নয়না

_
_
_
_

