ভোটের ময়দানে যা ছিল ‘ডোলের রাজনীতি’, প্রশাসনিক চেয়ারে বসতেই তার নাম হয়ে গেল ‘জনকল্যাণ’। রাজনৈতিক অবস্থানের এই ভোলবদল ঘটিয়ে নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরেই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগের সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী বা সবুজসাথীর মতো কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। বরং এই প্রকল্পগুলি যেভাবে চলছিল, সেভাবেই আপাতত বজায় রাখবে নতুন সরকার।
নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতারা বারবার তৃণমূল সরকারের এই অনুদানভিত্তিক প্রকল্পগুলিকে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যের কোষাগার খালি করে সাধারণ মানুষকে ভিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতা দখলের পর বাস্তব পরিস্থিতির চাপে পড়ে সেই অবস্থান থেকেই কার্যত পিছু হঠল গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে এই প্রকল্পগুলির জনপ্রিয়তা এবং প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেই কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইল না নতুন মন্ত্রিসভা।

শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফের প্রমাণিত হল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত প্রকল্পগুলি কতটা বাস্তবসম্মত এবং জনমুখী ছিল। তৃণমূলের এক প্রথম সারির নেতার কথায়, বিরোধী আসনে বসে সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন থাকা প্রকল্প বন্ধ করার সাহস বিজেপি দেখাতে পারল না। তাঁদের দাবি, মহিলাদের হাতে নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়া বা পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার মতো কর্মসূচিগুলি গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, মেদিনীপুরের ঘরের ছেলের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কৌশলী। তাঁদের মতে, বাংলার আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় এই প্রকল্পগুলি এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। আচমকা এগুলি বন্ধ করে দিলে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা নতুন সরকারের ভাবমূর্তির পক্ষে সুখকর হবে না। ফলে সমালোচনা করলেও, বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে শেষ পর্যন্ত মমতার দেখানো পথেই হাঁটতে হচ্ছে নতুন সরকারকে।

আরও পড়ুন- টানা ৯ ঘন্টা জেরা! পুর দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার সুজিত বসু

_

_

_
_
_
_
