মারণ রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই পেরিয়ে জীবনের পরীক্ষায় আগেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এ বার সেই অদম্য লড়াইয়ের সাফল্য ধরা পড়ল উচ্চ মাধ্যমিকের (Higher Secondary) ফলাফলেও। উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas ) নিমতার (Nimta) মেয়ে অদ্রিজা গণ (Adrija Goan)। রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়ে প্রমাণ করলেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তির সামনে সবচেয়ে কঠিন বাধাও হার মানতে বাধ্য। ৪৮৭ নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে দশম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। একই স্থানে রয়েছেন আরও কয়েক জন পরীক্ষার্থীও।
ছোটবেলায় যখন অন্যরা স্বাভাবিক স্কুলজীবন নিয়ে ব্যস্ত, তখন অদ্রিজার দিন কেটেছে হাসপাতালের করিডর আর কেমোথেরাপির (chemotherapy) যন্ত্রণার মধ্যে। ষষ্ঠ শ্রেণির পরই তাঁর শরীরে ধরা পড়ে টি-সেল লিম্ফোমা (T-cell lymphoma)। শুরু হয় টানা চার বছরের কঠিন চিকিৎসা। একের পর এক কেমোথেরাপি, শারীরিক দুর্বলতা, মানসিক চাপ সব কিছুর সঙ্গেই লড়তে হয়েছে তাঁকে। সেই কঠিন সময়ে মেয়ের পাশে অটুট ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মা জ্যোতি গণ (Jyoti Goan)। শিক্ষকতা সামলানোর পাশাপাশি মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মুম্বই (Mumbai) পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন তিনি। পরিবারের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষিকা ও সহপাঠীরাও সাহস জুগিয়েছেন অদ্রিজাকে।

রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের (Ramakrishna Sarada Mission Sister Nivedita Girls School) ছাত্রী অদ্রিজা কলা বিভাগে (Department of Arts) পড়াশোনা করেছেন। ভূগোল, অর্থনীতি, মনোবিদ্যা ও কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ছিল তাঁর পছন্দের বিষয়। প্রথম দফার পরীক্ষাতেও মেধাতালিকায় জায়গা হয়েছিল তাঁর। এ বার আরও ভালো নম্বর পেয়ে রাজ্যের সেরাদের তালিকায় উঠে এলেন তিনি। তবে শুধু ভাল ফল করাই নয়, ভবিষ্যতে মানুষের মানসিক সমস্যার পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছেন অদ্রিজা। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি (Clinical Psychology) নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তিনি।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় খুব কাছ থেকে দেখেছে অদ্রিজা। তাই সাফল্যের মধ্যেও তাঁর ভাবনায় রয়েছে অন্য মানুষের লড়াই। অদ্রিজার বিশ্বাস শারীরিক যন্ত্রণার থেকেও মানসিক লড়াই অনেক বেশি কঠিন। সেই কারণেই ভবিষ্যতে মনোবিদ্যার জগতে কাজ করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি। ক্যানসারের (Cancer) বিরুদ্ধে জয় থেকে মেধাতালিকায় সাফল্য অদ্রিজার পথচলা আজ বহু লড়াকু মানুষের কাছেই নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা।

–

–

–

–
–
–
