একাধিক দুর্নীতি মামলায় ডিসি শান্তনুর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে আদালতে বিস্ফোরক ইডি। বৃহস্পতিবার রাতে ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির নোটিশ জারি করা হয়। শুক্রবার তাঁকে পিএমএলএ আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে ১৪ দিনের হেপাজতে চেয়ে আবেদন করেছে ইডি। পুলিশ হওয়ার প্রভাব খাটিয়ে ও রাজনৈতিক যোগসাজশ করে বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কাজের অভিযোগ তুলে ইডির আইনজীবী বলেন, “গল্প মনে হলেও সব সত্যি। যখন চার্জশিট হবে তখন এটাই সত্য বলে প্রমাণিত হবে।” যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তনু।
কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বলছে, দুর্নীতি করেই টাকা আয় করতেন। ইডির আইনজীবী ধিরাজ ত্রিবেদী অভিযোগ তোলেন, “বেআইনি কাজে পুলিশকে বেশি করে ব্যবহার করা হত। তাতেও কাজ না হলে সোনা পাপ্পুর দুষ্কৃতী দলকে নিয়ে ভয় দেখানো হত। সোনা পাপ্পুকে দিয়ে হুমকি সংস্কৃতি চালাত শান্তনুর। ওয়েলফেয়ার কমিটির দ্বারা সব পুলিশ অফিসারকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। পুলিশ অফিসারদের বদলি করার কারবার চালাচ্ছিলেন শান্তনু। এই করে প্রচুর টাকা তোলা হয়েছে। এটা দুর্নীতির টাকা। অবসরের পরও তৎকালীন সরকার দীর্ঘদিন এক্সটেনশন পেয়েছেন। একই থানায় (কালীঘাট) দীর্ঘ বছর পোস্টিং ছিল। শান্তনু নিজের ছেলেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিন পদে নিয়োগ করেছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকে দেখা যাচ্ছে, শান্তনু আর জয় সবসময় নিজেদের মধ্যে কথা বলত কীভাবে আরও টাকা আসবে।” আরও পড়ুন: ভোজশালা মন্দিরই! নমাজের জন্য অন্য জায়গা খুঁজে নেওয়ার নির্দেশ মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের

আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, একটি সংস্থার দুটি ফ্ল্যাট বুক করা ছিল এবং “সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে কোনও কাজ করা যেত না, এটাই ছিল নিয়ম।” সেই কারণেই অভিযুক্তকে কোনওভাবেই জামিন দেওয়া উচিত নয় বলে সওয়াল করেন তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী। অন্যদিকে, শান্তনুর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে ইডির বক্তব্যকে ‘গল্প’ বলে কটাক্ষ করেন তাঁর আইনজীবী সাবির আহমেদ। আদালতে তিনি বলেন, “ইডি অনেক গল্প শোনাল আদালতে। কিন্তু আদালতে গল্প নয়, প্রমাণ চলে।” আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের পারিবারিক সূত্রে জমি ও সম্পত্তি রয়েছে এবং একটি অনুষ্ঠানের সূত্রে কিছু উপহার পাওয়া গিয়েছিল, যার সঙ্গে দুর্নীতির কোনও যোগ নেই। পাশাপাশি তিনি আদালতে জানান, “সোনা পাপ্পু” নামে যাঁর উল্লেখ করা হচ্ছে, তাঁকে তাঁর মক্কেল চেনেন না।

তদন্তে সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে শান্তনুর আইনজীবী বলেন, ইডি যতবার নোটিস পাঠিয়েছে, ততবারই তাঁর মক্কেল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। তিনি পালিয়ে যাবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেন। এমনকি “যে কোনও কঠিন শর্তে” জামিন মঞ্জুর করার আবেদনও জানান তিনি।

–

–

–

–
–
–
