Sunday, May 17, 2026

গোমাংস খাবেন না: পরামর্শ নাখোদা মসজিদের ইমামের, নিষিদ্ধ হোক রফতানি, মন্দিরেও বলি বন্ধের আর্জি

Date:

Share post:

রাজ্যে ১৯৫০ সালের আইন কার্যকর করে প্রকাশ্যে জবাই বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার (State Government)। নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে শুধু গবাদি পশু জবাই বন্ধই নয়, তার রফতানি বন্ধের আবেদনও জানিয়েছেন নাখোদা মসজিদের (Nakhoda Masjid) ইমাম মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমি। একই সঙ্গে তাঁর আর্জি মন্দিরেও বন্ধ হোক পশু বলি। মুসলমান ভাইদের কাছে গোমাংস না খাওয়ার আবেদন তাঁর। পাশাপাশি সরকারের কাছে গরুকে (Cow) জাতীয় পশু (Natoinal Animal) ঘোষণা করে তার যথাযথ সংরক্ষণেরও আর্জি জানিয়েছেন নাখোদা মসজিদের ইমাম।

নাখোদা মসজিদের ইমামের মতে, গোহত্যা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে বিভেদ বাড়ুক, সেটা তিনি চান না। সব মুসলমান ভাইদের তিনি গোমাংস না খাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে সেটাকে ব্যবসায়িক দিক থেকে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি মুসলমান ভাইদের অনুরোধ করছি, আপনারা দয়া করে গরু কুরবানি বন্ধ করুন, গরু খাওয়া বন্ধ করুন। এর পরিবর্তে ছাগল, খাসি, মুরগি ও মাছ খান। যদি আপনারা গরু খাওয়া ও কুরবানি বন্ধ করেন, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে হিন্দু ভাইদের। আমাদের হিন্দু ভাইদের মধ্যে যাঁরা ঘোষ-যাদব সম্প্রদায়ের, তারাই মূলত গরু পালন করেন। গরু দুধ দেয়া বন্ধ করলে তারা তা হাটে মুসলমানদের কাছে বিক্রি করেন। যে গরু আগে ২৫, ৩০ বা ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, কুরবানির সময় তা ৭৫ হাজার, ৮০ হাজার বা এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এতে হিন্দু ভাইরা একটি গরু বিক্রি করে চারটি গরু কেনার সুযোগ পান এবং তাদের লাভ হয়।”

মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমির কথায়, সরকার গোহত্যা নিয়ে যে নির্দেশিকা জারি করেছে তা আজকের নয়। ১৯৫০ সালে এই নিয়ে আইন তৈরি হয়েছিল। সেই মোতাবেক, গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। পশুদের ডাক্তার সার্টিফিকেট দেবে। আর প্রকাশ্যে গোহত্যা করা যাবে না। তৃতীয় নিয়ম, পর্দার ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ এমনভাবে কুরবানি করতে হবে যাতে অন্য কেউ বিব্রত বোধ না করে। তাঁর সংযোজন, “আমি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমরা চাই, সবাই তা মানুক। এর আগে যারাই সরকার এসেছে, তারাই মুসলমানদের অপব্যবহার করেছে। মাংস খেতে দেওয়ার স্বাধীনতা দিয়ে ফায়দা লুটেছে। আমাদের এখন আইন মানা দরকার।”

তথ্য দিয়ে নাখোদা মসজিদের ইমাম (Nakhoda Masjid)  জানান, ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি গরু রফতানি করা হয়। সেটাও সরকারকে বন্ধ করতে হবে। কুরবানি দিলে সেটা নিয়ে আপত্তি, অথচ রফতানি বজায় থাকবে, সেটা হতে পারে না। তাঁর মতে, গরুকে যদি জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়া হয় তাহলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

Related articles

ফ্রান্সের বিশ্বমঞ্চে প্রথম বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘লাফটারসেন’ 

সমাজমাধ্যমে মানুষের মুখে হাসির ফোয়ারা ছোটান যে মানুষটি, আবার মাঝে মধ্যেই সামাজিক বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে নজর কাড়েন...

ডার্বিতে টুটু স্মরণ, ইস্ট – মোহনের লড়াইয়ে হাজির নিশীথ

  আইএসএল ডার্বি ম্যাচের মেগা মঞ্চে টুটু বোসকে স্মরণ করল ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান কয়েকদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন...

পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা পরিচয় মুছে দেব: ফলতায় প্রচারে আশ্বাস শমীকের

বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ফলতার নির্বাচনী প্রচার থেকে উন্নয়নের আশ্বাস বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। একদিকে এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য...

সমস্যা রয়েছে: সীমান্তের জমি অধিগ্রহণে গিয়ে সমাধানের আশ্বাস মন্ত্রী অশোকের

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন ৪৫ দিনের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার জমি কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফের হাতে তুলে...