Thursday, May 21, 2026

সরকারি কর্মীদের কণ্ঠরোধ! রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার তীব্র সমালোচনা তৃণমূলের

Date:

Share post:

সরকারি কর্মচারীদের মতপ্রকাশে নিষেধাজ্ঞার এবার প্রতিবাদ করল তৃণমূল কংগ্রেস(TMC)। বৃহস্পতিবার দলের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, ‘‘নতুন সরকার যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ। সরকার বলছে, কর্মচারীরা সরকারি নীতির বিরোধিতা করতে পারবেন না।’’ এদিন তিনি সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কর্মচারী সংগঠনের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন। বলেন, ‘‘এখন তো সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা নিয়েও কথা বলতে পারবেন না।’’

মহার্ঘ ভাতা নিয়ে তৃণমূল আমলে সরকার ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে যে ভাবে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ ও তৌসিফ রহমান। বলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এই আইন প্রয়োগ করত তাহলে কী হত? কত বিপ্লব সেখানেই শেষ হয়ে যেত। বিপ্লবীদের তিনি সেই সুযোগ দিয়েছেন বলেই রাজ্য সরকারের কাছে দাবি করে, নীতির বিরুদ্ধে, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এত আন্দোলন হয়েছে। অত্যন্ত বিকৃতভাবে রাজ্য সরকারের একাংশ তৎকালীন সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে যা যা করেছেন, এবার কি বলবেন? এখন তো রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করা যাবে না, নিষেধাজ্ঞা। আপনি রাজ্য সরকারি কর্মচারী, কিন্তু নীতির সমালোচনা করতে পারবেন না। কিন্তু এটাই তো এতদিন হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজার সমালোচনার পরেও এই ধরণের কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন নি। আইন চালু করেন নি। তখন আপনারা কি বলতেন? যদি উনি এই সার্কুলার দিত তখন অনেক কিছু বলতেন, আজ নীরব কেন? যারা কাজ ফেলে ধর্নায় বসে থাকতেন আজ নীরব কেন? সার্কুলারটিতে All India Services Conduct Rules, 1968 এবং West Bengal Government Servants’ Conduct Rules, 1959-এর বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও জনসমক্ষে বক্তব্যের উপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সেগুলি কঠোরভাবে মানতে হবে। এবার বলুন ডিএ দিতে হবে, কেন দেওয়া হচ্ছে না? বকেয়া ডিএ নতুন সরকার এসেই নাকি মিটিয়ে দেবে, এখন বলুন! সরকারি কর্মচারীদের সম্পূর্ণভাবে কণ্ঠরোধ করে দেওয়া হল এই সার্কুলারের মাধ্যমে। এরপরেই আমরা মানি আপনার মত প্রকাশের স্বাধীনতা সরকারি কর্মচারী বলে বিলুপ্ত হতে পারে না। এই ধরণের সার্কুলার দেওয়ার আগে তার আইনি দিকটাও খতিয়ে দেখা উচিত।” আরও পড়ুন: ত্বিষা শর্মা মৃত্যু-তদন্তে নয়া মোড়! পলাতক স্বামীর খোঁজে পুরস্কার মূল্য ৩ গুণ

কুণাল ঘোষের আশঙ্কা, এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসার পিছনে ভবিষ্যতে আরও কর্মচারী-বিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারে নতুন সরকার। বলেন, ”ঈশানকোণে কালো মেঘ জমার মত এই সরকার তার মানে আরো অনেক সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে যেটায় সরকারি কর্মীদের থেকে আপত্তি আসার আশঙ্কা আছে। গোড়াতেই ওই জন্য মুখ বন্ধ করে দেওয়া হল। সরকারি কর্মীরা এতদিন ধর্ণা, মিছিল, আন্দোলন , মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করেছেন তাদের মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দিল নতুন সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে ধরণের স্লোগান পোস্টার দিয়ে বিদ্ধ করেছেন, হবে তো এবার সেগুলো? সপ্তম পে কমিশন, ৪ শতাংশ ডিএ, ছাত্রদের বিবেকানন্দ স্কলারশিপ সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করে যাওয়া। আমরা এখানে পেনশন ও দিচ্ছি, ডিএ-ও দিচ্ছি। বেশিরভাগ রাজ্যে পেনশন বন্ধ। যারা ধর্ণা দিচ্ছেন তারা যদি এই ঘটনার প্রতিবাদ না করেন তাহলে ধরে নিতে হবে মেনে নিচ্ছেন এই সিদ্ধান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া স্বাধীনতার অপব্যবহার করেছেন আপনারা।”

এরপরেই কুণাল ঘোষ বলেন, ”গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আমাদের পরিষদীয় দলের ধর্ণা কর্মসূচি হয়েছে, সেখানে প্রশ্ন উঠেছে কেন সব বিধায়ক ছিলেন না। এটা নাকি ভাঙ্গন! গতকাল বলেছি আবার বলছি, কয়েকজনকে ধর্নায় থাকতে হবে এবং বাকিদের জেলায় ফিরতে হবে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলের তরফে। অত্যাচারিতদের পাশে থাকতে হচ্ছে তাদের। পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে সেখানে তাদের কাজ করতে হচ্ছে। কোনরকম বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। হকার ও গরিব মানুষের পেটে লাঠি মেরে যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যে সকল মানুষের কথা ভেবে এই কাজ করা হচ্ছে তারাই এদের থেকে জিনিস কিনতেন। সিপিএম একসময় এভাবে সব ভেঙেছিল কোনদিকে পুনর্বাসন না দিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনর্বাসন দিয়েছেন।”

কুরবানী নিয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি জানান, ”সব ধর্মের নিজের রীতি পালনের অধিকার আছে। এখানে বিজেপির দ্বিচারিতা আছে। তাঁরা যদি মনে করে বাংলায় পশুহত্যা করা যাবে না, আমাদের বক্তব্য বাংলায় যে পশু হত্যা বলছে করা যাবেনা, দিল্লির সরকার সেটাকেই রপ্তানি করে বিদেশী মুদ্রা অর্জন করছে। যেটাকে বাংলায় নিষিদ্ধ করছেন, সেটা রপ্তানি বন্ধ হচ্ছে না কেন? যদি রপ্তানি বন্ধ না হয় তাহলে বাংলায় হিন্দু মুসলিম বলে ভেদাভেদ করছেন কেন? পশু হত্যা, রপ্তানি, মাংস প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করছেন না কেন? আমাদের কাছে খবর আছে, বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ পশু হত্যা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার সমস্যায় আছেন হিন্দু পরিবার যারা খামারের বা গো-পালনের ব্যবসা করেন। ফলে অর্থনৈতিক চাপটা চলে এল হিন্দু পরিবারের ওপর। সরকারের উচিত যে সকল পরিবার গো-পালন করছে তাদের থেকে গরু কিনে সরকারি গোশালায় ব্যবস্থা করা। সরকার তাহলে হিন্দু পরিবারের পাশে থাকুক। এটা ধর্ম, বা কে গরুর মাংস কেবল সেটা নয়, এটা অর্থনৈতিক বিষয়। সুরাহা করতে সরকার এগিয়ে আসুক।”

Related articles

সরকারি ক্রয়-পরিষেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে CVC বাধ্যতামূলক

সরকারি ক্রয় বা পরিষেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্যের সমস্ত দফতরে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন (CVC)-এর নির্দেশিকা...

ফের শুরু হতে চলেছে ‘সহজ কথা’

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunaday Banerjee) সঞ্চালনায় এই শোয়ের ছিল বিপুল জনপ্রিয়তা! কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে 'সহজ কথা' এতটাও...

মেয়র পারিষদের বৈঠকের পর এবার বাতিল পুরসভার মূল মাসিক অধিবেশনও!

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তপ্ত কলকাতার রাজনৈতিক মহল। এর মধ্যে বরো চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাসের পদত্যাগ-সহ কলকাতা পুরসভাতেও...

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে গ্রেফতার অধ্যাপিকা মনীষা মান্ধার

NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে শোরগোলের মাঝেই এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুণের 'মডার্ন কলেজ অফ পুনা'-র উদ্ভিদবিজ্ঞান...