রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার অলিন্দ বদল হতেই রাতারাতি ভোলবদল দিল্লির। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই ফের সচল হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প। আর কেন্দ্রের এই সবুজ সংকেত ঘিরেই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে এক পুরোনো বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন ধরে বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রাখার নেপথ্যে যে নিছকই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছিল, দিল্লির এই তৎপরতায় তা যেন আরও একবার দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেল। ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়তেই যেভাবে বকেয়া বরাদ্দের জট খুলে গেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিদায়ী শাসকদল।
প্রশ্ন উঠছে, যদি প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতার কারণেই এতদিন টাকা বন্ধ রাখা হয়ে থাকে, তবে সরকার বদলাতেই কীভাবে ম্যাজিকের মতো সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল? অতীতে দক্ষিণ ২৪ পরগণা বা মুর্শিদাবাদের মতো দু-একটি জেলায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই অজুহাতে গোটা রাজ্যের গরিব মানুষকে শাস্তি দেওয়ার কৌশল কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল, তা নিয়ে খোদ আদালতেও প্রশ্ন উঠেছিল। দুর্নীতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ করার পথে না হেঁটে, কেন গোটা বাংলার লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী পরিবার, দিনমজুর ও জব কার্ড হোল্ডারদের বছরের পর বছর ভাতে মারার চেষ্টা করা হলো, সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হচ্ছে।
তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া আটকে রাখা হয়েছিল কোনও নিয়মের তোয়াক্কা না করেই। এর আসল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকারকে কোণঠাসা করা এবং জনমানসে তাদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করা। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টও একদা পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, দুর্নীতির তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলতেই পারে, কিন্তু তার জন্য কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অনির্দিষ্টকালের জন্য স্তব্ধ করে রাখা যায় না। আদালতের সেই বার্তাকেও যে দিল্লি বিশেষ আমল দেয়নি, তা বঞ্চনার ধারাবাহিকতাতেই স্পষ্ট ছিল। কেন্দ্র মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর গ্রামীণ শ্রমিকদের ক্ষোভ প্রশমন করতে ও তাঁদের রুজি-রুটির টানে তৎকালীন রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছিল। রাজ্যের নিজস্ব কোষাগারের টাকায় জব কার্ড হোল্ডারদের ৫০ থেকে ৭০ দিনের কাজের সুযোগ করে দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল ঘাসফুল শিবির।
আরও পড়ুন- আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা! ইদের পরেই পথে নামছেন মমতা
_
_
_
_
_

_
_

