আক্রান্ত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে ইদের পরেই এবার সশরীরে ময়দানে নামছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কালীঘাটের বাসভবনে উত্তর ও দক্ষিণ দমদম, বরানগর পুরসভা এবং বিধাননগর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও আশঙ্কা দূর করতেই নেত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ বলে রাজনৈতিক মহলের খবর। বৈঠক থেকে দলের সতীর্থদের অভয় দিয়ে নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, তিনি নিজেই সবার পাশে আছেন। আবার নতুন করে লড়াই শুরু হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়োজনে দল বেঁধে থানায় গিয়ে পুলিশি অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে কথা বলার বার্তা দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন প্রবীণ নেতা ও কাউন্সিলর নেত্রীকে আশ্বস্ত করে জানান, দলের দরকারে তাঁরা সবাই একসঙ্গে থানায় গিয়ে ডেপুটেশন দেবেন এবং প্রয়োজনে একযোগে গ্রেফতার বরণ করতেও পিছপা হবেন না।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র দলের এই নতুন রণকৌশলের কথা জানান। তিনি বলেন, নেত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন একজোট হয়ে লড়াই করার। যেখানে সেখানে বেআইনিভাবে হকার উচ্ছেদ কিংবা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাড়ি ভাঙার ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সম্প্রতি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মুখে পড়ে দলের যে কাউন্সিলর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, এদিনের বৈঠকে সেই প্রসঙ্গটিও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়। শোকসন্তপ্ত ওই পরিবারটির পাশে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী।

তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, বিজেপি গায়ের জোরে রাজ্যের একাধিক পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই কেউ যেন পদত্যাগ না করেন। পুরসভা ও কর্পোরেশনগুলির কাজ স্বাভাবিক রেখে সাধারণ মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দিয়ে যেতে হবে। নবান্ন ও কালীঘাট সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনে এমন আরও বেশ কিছু পুরসভা ও সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করবেন তৃণমূল নেত্রী। সেখান থেকেই তৈরি হবে আগামী দিনের আন্দোলনের মূল রূপরেখা।

আরও পড়ুন – কাজে যোগ দেওয়ার ৪ দিনের মধ্যেই কারখানায় শ্রমিকের দেহ উদ্ধার, তদন্তে হোমিসাইড শাখা

_

_

_
_
_
_
