Monday, May 25, 2026

সিবিএসই-র খাতা পুনর্মূল্যায়নে বেনজির কেলেঙ্কারি! ফিজিক্সে আপলোড অন্য ছাত্রের উত্তরপত্র

Date:

Share post:

পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম আসায় বোর্ডের নিয়ম মেনে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানিয়েছিল দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্র। কিন্তু কেন্দ্রীয় বোর্ড সিবিএসই-র পোর্টাল থেকে নিজের ফিজিক্স পরীক্ষার উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি ডাউনলোড করতেই চোখ চড়কগাছ তার। উত্তরপত্রে যে হাতের লেখা, কাটার ধরণ বা উত্তর লেখার শৈলী রয়েছে, তার সঙ্গে নিজের খাতার কোনও মিলই নেই! সিবিএসই-র বোর্ড পরীক্ষার পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ঘিরে এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশের শিক্ষা মহলে। এই ঘটনা সামনে আসতেই বোর্ডের ডিজিটাল মূল্যায়ন বা ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম’-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

চলতি ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নিয়মমাফিক খাতা ভেরিফিকেশন ও রি-ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিবিএসই। এই ব্যবস্থার অধীনেই ছাত্র-ছাত্রীরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নিজেদের উত্তরপত্রের স্ক্যান কপি দেখার সুযোগ পান। সংশ্লিষ্ট ওই ছাত্রের দাবি, ফিজিক্স পরীক্ষায় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম নম্বর পাওয়ায় সে উত্তরপত্রের কপির জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু খাতা হাতে পেয়ে সে এবং তার পরিবার স্তম্ভিত হয়ে যান। ছাত্রটির পরিবারের সদস্য, স্কুলের শিক্ষক এবং পরিচিতরা খাতাটি দেখামাত্রই একযোগে জানিয়ে দেন যে, এটি অন্য কোনও পরীক্ষার্থীর খাতা। নিজের দাবির সপক্ষে ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে একাধিক প্রমাণ ও উত্তরপত্রের নমুনা পেশ করে জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছে ওই ছাত্র।

বিভ্রান্তি যে গভীর, তা প্রমাণ করতে নিজের ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্সের উত্তরপত্রের সঙ্গে ফিজিক্স খাতার তুলনামূলক খতিয়ান তুলে ধরেছে ওই পরীক্ষার্থী। তার বক্তব্য, ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্সের খাতায় হাতের লেখা, অক্ষরের গঠন, লাইনের মধ্যবর্তী ফাঁক বা লেখার গতি স্পষ্টভাবে এক হলেও, ফিজিক্সের খাতাটি সম্পূর্ণ আলাদা। কোনও এক অজ্ঞাত ছাত্রের খাতা তার রোল নম্বরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রটির আশঙ্কা, বোর্ডের ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) ব্যবস্থায় কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভুল ট্যাগিংয়ের কারণেই হয়তো উত্তরপত্র অদলবদল হয়ে গিয়েছে।

এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে বাকি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে যে ডিজিটাল খাতা দেখার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সেখানেই যদি এমন নজিরবিহীন গাফিলতি হয়, তবে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? ওই ছাত্রের রোল নম্বরের অধীনে আসলে কার খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে, আর তার নিজের আসল খাতাটিই বা এখন কোথায়— সেই ধোঁয়াশা কাটানোর দায় এখন সম্পূর্ণ সিবিএসই কর্তৃপক্ষের কাঁধেই।

আরও পড়ুন- আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা! ইদের পরেই পথে নামছেন মমতা 

_

_

_

_

_

_

Related articles

সমন্বয়-স্বচ্ছ কাজের পরিবেশ তৈরিতে রাজ্য-কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে নৈশভোজ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রশাসনে সমন্বয় ও স্বচ্ছ কাজের পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Chief Minister Subhendu Adhikari)। রাজ্য ও...

নিষ্পত্তির হার মাত্র ০.২৬ শতাংশ! ট্রাইবুনালে ঝুলে ২৫ লক্ষ আবেদন

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় এ রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল।...

 প্রতিহিংসার রাজনীতি? সরকার বদল হতেই জট কাটল ১০০ দিনের কাজের

রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার অলিন্দ বদল হতেই রাতারাতি ভোলবদল দিল্লির। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই ফের সচল হতে চলেছে ১০০...

আক্রান্ত কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা! ইদের পরেই পথে নামছেন মমতা 

আক্রান্ত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে ইদের পরেই এবার সশরীরে ময়দানে নামছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কালীঘাটের বাসভবনে উত্তর...