প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ছাত্রদের আন্দোলনে সামিল হওয়ায় মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) হাতে আটক হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Leader of the Opposition in the Lok Sabha, Rahul Gandhi)। সেই ঘটনার একদিন পর, বুধবার সাংবাদিক বৈঠক (Press Conference) থেকে ফের কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। অভিযোগ, গত ১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও একটিও দোষী সাজা পায়নি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Education Minister Dharmendra Pradhan) পদত্যাগ, আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগের জবাবদিহি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Prime Minister Narendra Modi) ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন রাহুল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে রাহুলের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের কাছে সরকারের জবাবদিহি করা উচিত। এবং তাঁর ছাত্রদের কাছে এই সব বিষয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছাত্রদের কাছে। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল ভিত্তি শিক্ষা। সেই ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের দায়িত্ব। এই দাবিতেই আন্দোলন চলছে এবং কংগ্রেস ছাত্রদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া দেশের ছাত্রছাত্রীরা কোনও অন্যায় দাবি করছে না। তারা শুধু একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা চাইছে। অথচ তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জবাবে পুলিশি বলপ্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, "ছাত্ররা এমন কী অপরাধ করেছে যে তাদের দিকে অস্ত্র তাক করা হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে এবং অপমান করা হচ্ছে?" এই ঘটনার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাহুলের কথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকার শিক্ষামন্ত্রীর নেই।

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, গত এক দশরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু একটি মামলাতেও দোষীদের বিরুদ্ধে সাজা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রায় সাড়ে সাত কোটি ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পরিবার সঞ্চয়ের টাকা খরচ করে সন্তানদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি করায়, কিন্তু পরীক্ষার ঠিক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাদের সমস্ত পরিশ্রম ও আশা ভেঙে পড়ছে।

রাহুল আরও বলেন, এই পরিস্থিতি কোনও বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ছাত্রছাত্রীরা প্রবল মানসিক চাপে ভুগছে। দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর দাবি, এই চাপ সহ্য করতে না পেরে বহু পড়ুয়া আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, সরকার তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করল, তা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর কথায়, "সরকার আমার বিরুদ্ধে যা খুশি করতে পারে। তাদের অভিযোগে আমার কিছুই যায় আসে না। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা। আমার সঙ্গে কী করা হল, তা নিয়ে আমি ভাবি না।"