রাজ্যের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অথচ তাঁর হাতেই হচ্ছে দেশের আইনভঙ্গ। আন্তর্জাতিক হকার দিবসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকারদের উপর বুলডোজার চালানোর ঘটনায় সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মনে করিয়ে দিলেন হকারদের (hawker) উপর এভাবে বুলডোজার (bulldozer) চালিয়ে স্ট্রিট ভেন্ডর্স আইন, ২০১৪-কে (Street Vendors Act, 2014) ভাঙছে।
কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশন চত্বর, ধর্মতলা, গড়িয়াহাটের মতো বাজার এলাকায় প্রায় প্রতিদিন হকাররা রুটি রুজি হারিয়ে এখন প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন। যেভাবে কোনও নোটিশ, কোনও পুণর্বাসন ছাড়া তাঁদের দোকান ভেঙে, জিনিস নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে তাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ, দাবি হকারদের। এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্বও। নেত্রী নিজে সব নেতৃত্বকে পথে নেমে প্রতিবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ২৬ মে আন্তর্জাতিক হকার দিবসে রাজ্যের সেই হকারদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেই সঙ্গে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, ‘২৬ মে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক হকার দিবসে আমার খেটে খাওয়া হকার ভাই বোনেদের জানাই অভিনন্দন। তার সাথে তাঁদের জানাই সমবেদনা। যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার হকারদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে, উচ্ছেদ করছে, তাদের দোকান ভেঙে দিচ্ছে, তাদের চোখের জলকে তোয়াক্কা না করে তাদের পথে বসাচ্ছে সেটা দেখে আমি বিস্মিত, ক্রুদ্ধ, মর্মাহত। অত্যাচারীরা এর জবাব নিশ্চয়ই পাবে। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো।’

তিনি মনে করিয়ে দেন, পথচারী ও স্থায়ী দোকানদারদের অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি হকারদের রুটি-রুজি —এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারতে ‘স্ট্রিট ভেন্ডর (সুরক্ষা ও নিয়মকানুন) আইন, ২০১৪’ (Street Vendors Act, 2014) পাস হয়েছিল, যাতে যানজট এড়ানো যায় আবার হকারদের আকস্মিক উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। একটি আদর্শ ও সুপরিকল্পিত শহরের লক্ষ্য হকার উচ্ছেদ করা নয়, বরং তাঁদের শহর ব্যবস্থার অঙ্গ করে নেওয়া। হকারদের জন্য সুশৃঙ্খল ও পরিকাঠামোযুক্ত পুর-বাজারের ব্যবস্থা করা গেলে পথচারীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয় না, আবার শহরের প্রাণবন্ত ক্ষুদ্র-অর্থনীতিও সচল থাকে। মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে হকারদের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি ও সুনির্দিষ্ট রূপ দিয়েছেন। গত কয়েক দশক ধরে শীর্ষ আদালতকে সংবিধানের ১৯(১)(ছ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হকারদের স্বাধীনভাবে ব্যবসা বা জীবিকা অর্জনের মৌলিক অধিকার এবং জনসাধারণের পরিষ্কার ও নিরাপদ রাস্তায় চলাচলের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি মামলার উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে নাগরকি স্বাচ্ছ্যন্দের সঙ্গে মানুষের জীবিকার অধিকারকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই মামলাগুলিতে রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে হকারদের দাবিতে মান্যতা দিয়েছিল, তারও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন : ভোট-পরবর্তী গেরুয়া ‘সন্ত্রাস’ রুখতে নয়া কর্মসূচি! উত্তর কলকাতার বৈঠকে সুদীপ-কুণালরা

তাসত্ত্বেও বাংলার বিজেপির সরকার সেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হকারদের দোকানে বুলডোজার চালাচ্ছে। তাতে শহরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙছে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের একাধিক আদালতের নির্দেশও। ভাঙছে দেশের আইন। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দাবি, ‘জীবিকার অধিকার কোনো সমীক্ষা বা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ না দিয়ে আকস্মিক বা খামখেয়ালি উচ্ছেদ করা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ (জীবন ও জীবিকার অধিকার)-এর লঙ্ঘন। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাহকারদের অধিকার পরিচালনার দায়িত্ব টাউন ভেন্ডিং কমিটি (TVC)-র মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হতে হবে, যাতে নগর পরিকল্পনায় হকারদের নিজস্ব মতামত প্রতিফলিত হয়।’

–
–
–
