লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারা সবাই পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনা- ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছিলেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) থেকে শুরু করে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। কিন্তু বুধবার, নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়ে দিলেন ঝাড়াই বাছাই হবে। বর্তমান উপভোক্তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষকে “অভারতীয়” বা “অযোগ্য” সন্দেহ করা হচ্ছে। নতুন করে ফর্ম ফিলাপ ও ভেরিফিকেশন হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারা সবাই নয়, অন্নপূর্ণা যোজনায় (Anapurnna Yojona) পূরণ করতে হবে একের পর এক শর্ত। অথচ সরাসরি সুবিধা দেওয়ার ভোটার তালিকা (Voter List), আধার, পারিবারিক তথ্য, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত একাধিক তথ্য জমা দিতে হবে। এমনকী প্রশাসনের তরফে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাইয়ের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ যেতে পারে। অর্থাৎ শুরু থেকেই “সন্দেহভাজন” হিসেবে দেখা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক মহিলাকে। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন যাঁরা সরকারি নথি যাচাইয়ের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছেন, হঠাৎ তাঁরা কীভাবে অযোগ্য হয়ে গেলেন? শুভেন্দু জানান, আগামী ৯০ দিন ধরে অফলাইন ও অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করা যাবে। যাঁরা ২ জুনের মধ্যে ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন, তাঁরা ৩ তারিখ থেকেই ৩ হাজার টাকা পাবেন। যাঁরা এই সময়ের মধ্যে ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন না, তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা করে পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী কথায়, “একদিনে সকলে ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন না। তাড়াহুড়ো করবেন না। সকলেই পাবেন। আমাদের সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দিতে চায়। আবার নানাবিধ স্কিমে যুক্ত করতে চায়। তাই ফর্মটিতে নানাবিধ তথ্য দিতে হবে।”

কীভাবে ফর্ম ফিলআপ?
শহরাঞ্চলে পুরসভা, ওয়ার্ডভিত্তিক, বরো অফিসে ফর্ম ফিলআপের ব্যবস্থা থাকবে। গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ করা হবে। বিধায়কেরাও বিডিও অফিসে ফর্ম পূরণ করাবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অভারতীয়, আয়কর দেন, সরকারি বা সরকার পোষিত কোনও চাকরি করলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।”

আয়ুষ্মান ভারত প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন, পোর্টালে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ শুরু করেছি। জুলাইতে সম্ভবত কার্ড দিতে পারব। যতক্ষণ না আয়ুষ্মান ভারতের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ স্বাস্থ্য়সাথী থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না।”
আরও খবর: বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা না করে অসৌজন্য অধ্যক্ষের! ধর্নায় শোভনদেব-কুণাল

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে জটিল ফর্ম, দীর্ঘ ভেরিফিকেশন আর হাজার শর্তের জালে প্রকল্পকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল নতুন সরকার। তৃণমূলের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার (Anapurnna Yojona) নামে আসলে নতুন করে এনআরসি ধাঁচের বাছাই প্রক্রিয়া চালু করছে বিজেপি সরকার। মহিলাদের আর্থিক সহায়তার প্রকল্পকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। “ভারতীয়”, “অভারতীয়” তকমা লাগিয়ে গরিব মহিলাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিরোধীদের।

–

–
–
–
