প্রবল কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত কলকাতা (Kolkata)। শুক্রবার দুপুরে কলকাতার বুকে ৮৮ কিমি বেগে ঝড় হয়েছে ঝড়ের মধ্যেই প্রিন্সেপ ঘাটে (Princep Ghat) মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ওভারহেড তারের উপরে গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। একই সঙ্গে গাছের ডাল চক্ররেলের ওভারহেড তারের (Overhead wire of the circular railway) উপর পড়ে আগুন ধরে যায়, যার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনের শেডের অংশ ভেঙে পড়ে। সব মিলিয়ে এদিন দুপুর গড়াতেই কলকাতা (Kolkata) ও সংলগ্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির দাপটে বিঘ্নিত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। 

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ঝড়ের সময় ওভারহেড তারের উপরে গাছ ভেঙে পড়ে। এর ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। তিনি গাছের নীচে আম কুড়াতে গিয়েছিলেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ওভারহেড তারে গাছ পড়ে প্রথমে আগুন লেগে যায়, বেশি কিছুক্ষণ ধরে যথেষ্ট ভয়াবহভাবে জ্বলতে থাকে আগুন। আউট্রামে যে চক্ররেল রয়েছে, তারই তারের ওপর একটি আম গাছ ভেঙে পড়ে। এর ফলে আগুন লেগে যায় ওই জায়গায়। কালবৈশাখীর প্রভাব পড়ে রেল পরিষেবাতেও। 

মধ্যমগ্রাম স্টেশনের কাছে রেললাইনের উপর বড় গাছ ভেঙে পড়ায় শিয়ালদহ শাখায় (Sealdah Branch) সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের পর থেকেই ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকায় একাধিক লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে লোকাল ট্রেন। নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। অনেকেই স্টেশনে আটকে পড়েন, আবার কেউ মাঝপথে ট্রেন থেমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় রেলের কর্মীরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় গাছ কাটার কাজ। এক ও দুই নম্বর লাইন থেকে গাছ সরিয়ে ট্রেন পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হলেও তিন নম্বর লাইনে কিছু ডালপালা পড়ে থাকায় সেখানে ট্রেন চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। 

পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram) নয়, হাবরা-গুমা (Habra-Guma)ও কল্যাণী-মদনপুরের (Kalyani-Madanpur) মধ্যেও লাইনের উপর গাছ পড়ে পরিষেবা ব্যাহত হয়। কোথাও ওভারহেড তারে সমস্যা তৈরি হয়, কোথাও আবার লাইনের উপর গাছ পড়ে ট্রেন চলাচল থমকে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। বিকেল তিনটে দশ মিনিটের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিষেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। 

এদিন সকাল থেকেই আবহাওয়া দফতর রাজ্যের একাধিক জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছিল। তবে দিনের ব্যস্ত সময় আচমকা এই ঝড়-বৃষ্টির জেরে শহর ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়। কলকাতা, সল্টলেক-সহ বিভিন্ন জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও মিলেছে। কোথাও জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়, কোথাও আবার সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসেব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

–

–

–
–
–
