বিধায়ক থেকে সংবাদ মাধ্যম: রাজ্যের বিধানসভায় একসঙ্গে কণ্ঠরোধের ফতোয়া!

বাংলার ক্ষমতায় এসেই একের পর এক নিয়ম জারি করেছে বিজেপির সরকার। এবার খোদ রাজ্যের বিধানসভায় সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে বিধায়কদের কথা বলা নিয়ে জারি হল ফতোয়া। যে বিধানসভায় অধিবেশন দেখার ও শোনার জন্য সংবাদ মাধ্যম (media) ও সাংবাদিকদের (journalists) জন্য আলাদা জায়গা রয়েছে সেখানেই মাত্র প্রেস কর্ণার (press corner) পর্যন্ত আটকে দেওয়া হল সাংবাদিকদের। অন্যদিকে বিধায়কদের (MLA) নির্দেশ দেওয়া হল অধ্যক্ষের (Speaker) অনুমতি ছাড়া সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না তাঁরাও।
Sponsored

শুক্রবারই বিধানসভা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে একটি বিজ্ঞপ্তি। যেখানে লেখা বিধানসভায় আসা সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট প্রেস কর্ণারেই থাকবেন। বিধানসভা চত্বরের (Assembly premises) অন্য কোথাও ঘুরে বেড়াতে পারবেন না। অন্য একটি নির্দেশে জানানো হয়েছে সেই প্রেস কর্ণারে (press corner) নিয়ম মতো প্রেস ব্রিফ বা প্রেস কনফারেন্স হবে যখন অধ্যক্ষ (Speaker) তাঁদের অনুমতি দেবেন। অর্থাৎ যাঁরা প্রেস ব্রিফ করতে আসবেন, তাঁদেরও অনুমতি দেবেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বোস। শুক্রবার এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসলেও দেখা যায় তাতে ২৫ মে তারিখ দেওয়া রয়েছে!
বিধানসভার তরফে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির পরেই প্রতিবাদ জানান তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, আমরা প্রেস কর্ণারে যাব, তার জন্য অনুমতি নিতে হবে। গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে এটা? সংসদে আছে? জানি না ভারতবর্ষের কোনও বিধানসভায় আছে কি না এই ব্যবস্থা?
সেই সঙ্গে যেভাবে গণমাধ্যমকে প্রেস কর্ণারে আটকে দেওয়া হল, তা নিয়েও সরব শোভনদেব। তিনি দাবি করেন, আপনারাও যেতে পারবেন না। যাঁরা সাংবাদিক ছিলেন তাঁরা এতদিন আমাদের ঘরে আসতে পারতেন, কথা বলতে পারতেন। এমনকি প্রয়োজন মোবাইলে সাক্ষাৎকারও নিতে পারতেন। সেগুলো সব বন্ধ হয়ে গেল। এভাবে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা যায় না। গণতন্ত্র মানেই যেখানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সবথেকে বেশি লাগে। সেখানে তাঁদেরও স্বাধীনতা হরণ করা মানেই গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ।
আরও পড়ুন : অন্যায়কে সমর্থন করি না: বিধানসভায় জাল-সই-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য শোভনদেবের
এখানেই পূর্ববর্তী তৃণমূল আমল, এমনকি সিপিআইএম আমলের সঙ্গে বিজেপির শাসনের পার্থক্য তুলে ধরেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল সরকার যখন ছিল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অধ্যক্ষ ছিলেন, হাসিম আব্দুল হালিম যখন সিপিআইএমের আমলে অধ্যক্ষ ছিলেন তারা আগে, কখনও সাংবাদিকদের গতিবিধি ভিতরে রোধ করা হয়নি। ক্যামেরার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় একটি প্রেস কর্ণার করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ফোনে অনেক সময়ই ছবি বা সাক্ষাৎকার করে নিয়েছেন।
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

রাস্তা জুড়ে অবৈধ দখলদারি চলবে না, হকারদের সতর্ক করলেন অগ্নিমিত্রা
Just now

কথা বলতে হলে সরকারকে আসতে হবে যন্তর মন্তরে: CJP
3h ago

পারিবারিক বিবাদের মর্মান্তিক পরিণতি, নিউটাউনে একই পরিবারের মৃত তিন
16h ago

ককরোচদের উপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ! মোদির বাসভবনের সামনে উত্তেজনা
16h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
16h ago

সিকিমে নির্মীয়মাণ টানেলে ধস-গ্যাস বিস্ফোরণ! মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
17h ago
More from শিরোনাম
View All →
ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
17h ago

ককরোচদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ! জবাব চাইতেই মোদির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের
17h ago

শহিদ স্মরণ সভাতেও কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে! পরিস্থিতি সামাল দিলেন অধীর
18h ago

অত্যাচারিত হলে যোগাযোগ করুন: নম্বর দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা অভিষেকের
19h ago

সিম্বল কাড়বে, এত সাহস! একটা গদ্দারকেও দলে ফেরাব না: স্পষ্ট বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর
20h ago
