আজ রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে রাখি বন্ধন উৎসব (Raksha Bandhan Festival)। শুক্রবার ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একদিকে যেমন রাখি বন্ধনের মাধ্যমে সৌভাতৃত্ব ও সম্পর্কের বন্ধনের কথা উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি স্বাধীনতার এত বছর পরেও পরও ' কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি' স্লোগান দেওয়া নিয়ে 'দেশবিরোধী'দের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে। সাফ বুঝিয়ে দিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দেওয়ালে 'রেড স্যালুট কিষেনজি' লেখা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বঙ্গভঙ্গের সময়ে রাখি বন্ধন উৎসব নিয়ে রবি ঠাকুরের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বাংলায় এই উৎসব ঘিরে পুনর্জাগরণের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'রাখি কেবলমাত্র একটি সুতো নয়। এর একটা অন্তর্নিহিত শক্তি রয়েছে।' এরপরই বিশ্ব যোগা দিবসে (International Yoga Day) পূর্ববর্তী সরকারের উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে বর্তমান বিজেপি সরকারের (BJP Government) আমলে এই অনুষ্ঠান পালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।পাশাপাশি 'হর ঘর তেরঙ্গা' কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই রাখি বন্ধন উৎসবের পুনর্জাগরণ ও সাংস্কৃতিক মাহাত্ম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন যাদবপুরের মতো বাংলা তথা দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগানের কথা উল্লেখ করে, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন 'দেশ তো কবেই স্বাধীন। তাহলে 'কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি'র মতো স্লোগান নতুন প্রজন্মকে কে শেখাচ্ছে? যারা দেশের ভিতরে থেকে দেশকে দুর্বল করতে চায়, বন্দেমাতরমের বিরোধিতা করে দেশের ক্ষতি করে, তাঁদের বাড়ির আবর্জনার মতো পরিষ্কার করার জন্যও শপথ নেওয়ার ডাক দেন শুভেন্দু।
এদিন কলকাতা পুলিশে (KP) কর্মরত মহিলা অফিসারদের কাছ থেকে রাখি পরেন মুখ্যমন্ত্রী। আলিপুরে আয়োজিত রাখি বন্ধন উৎসব থেকে দেশপ্রেম স্বাধীনতার সংগ্রামে বাংলার অবদান এবং বাংলার সংগ্রামীদের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বাইরের শত্রুদের পরাস্ত করতে কীভাবে ভারতীয় সেনা দেশের তৈরি অস্ত্রে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে সেকথাও উল্লেখ করেন। বলেন, ' কলকাতায় রাস্তায় যখন আজাদি স্লোগান ওঠে তখন কষ্ট হয়। সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলা বিভাগের দেয়ালে রেড স্যালুট কিষানজি লেখা, যিনি কিনা সংবিধান মানেন নি। যাঁরা জনগণমন- বন্দেমাতারামকে অপমান করে, এই দেশপ্রেমের রাখি বন্ধনে তাঁদের বাড়ির আবর্জনার মতো পরিষ্কার করার সময় এসেছে।' এদিন ভবানীপুরের অনুষ্ঠানে মহিলাদের কাছ থেকে রাখি পরার পর রাষ্ট্রবাদ, ভালোবাসা ও ভাতৃত্বের বন্ধনের উৎসবে খোল করতাল বাজিয়ে নগর পরিক্রমা করতে দেখা যায় তাঁকে। সেখান থেকে নজরুল মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Govt of West Bengal) ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ বিভাগ এবং তথ্য সংস্কৃতি দফতর আয়োজিত 'রাখি বন্ধন উৎসব ২০২৬'-এ যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে কেন্দ্র রাজ্য সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি।জানিয়েছেন, রাজ্যে এনসিসি (NCC ) ফিরিয়ে আনা হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। এই প্রসঙ্গে নিজের ছোটবেলার স্মৃতিও ভাগ করে নেন সকলের সঙ্গে। এদিন রাষ্ট্রবাদ ও দেশপ্রেমের বন্ধন সুদৃঢ় করার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই বছর রাখি বন্ধন উৎসবের আয়োজন সফলভাবে করার জন্য সরকারের তরফে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠানে অন্তত আড়াই হাজার তরুণ- তরুণী সহ রাজ্যের বিপুল পড়ুয়াদের হাতে ৫ হাজার তেরঙ্গা রাখি পরিয়ে দেওয়া হয়। এদিন বিকেলে যাদবপুর ৮বি মোড়ে দশ হাজার কণ্ঠে বন্দেমতরম পরিবেশিত হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন। অরাজনৈতিক এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সকলকে আহ্বানও জানান শুভেন্দু।
















