অতিক্রান্ত প্রায় ৪৮ ঘণ্টা, হড়পা বানের (Flash Flood) তাণ্ডব লীলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৯২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার নেপালে (Nepal)। কাদা স্তূপের মাঝে প্রাণের স্পন্দন খোঁজার কাজ চলছে। ফের দুর্যোগের আশঙ্কায় সতর্ক নেপালের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, মানস সরোবর ভ্রমণ করতে যাওয়া রাজ্যের ৩২ বাসিন্দার খোঁজ মেলেনি। বাঁকুড়ার বাসিন্দা এক যুবকও নিখোঁজ। উদ্বেগ বাড়ছে তাঁদের পরিবারে।

বুধবার নেপালে আচমকা আসা জলরোষের স্মৃতি এখনও টাটকা, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ। এরই মাঝে ফের ফের হড়পা বানের আশঙ্কায় ত্রস্ত হিমালয়ের নদী উপত্যকা। ভোতেকোশি নদীর বানের জেরে পাহাড়ের কোলে প্রায় ২০০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসা কাদামাটি মিশ্রিত স্রোতের ধাক্কায় ভেসে গিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে শুধুই ধ্বংসলীলা।নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, নতুন করে হড়পা বানের সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। কিন্তু বিপর্যয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্তে পাহাড়ি ধসের কারণে ছোছেন খোলা এবং পুরেপু সাংপো নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে সেখানে রাতারাতি সৃষ্টি হয়েছে বিশাল এক হ্রদের।জমে যাওয়া জলের চাপে হঠাৎ পাথর ও মাটির স্তূপ ভেঙে গেলে ফের বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। 

নেপালের বিপর্যয়ে অন্তত ৩০০ ভারতীয় সে দেশে নিখোঁজ। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘তিব্বতে ২০০ জন ভারতীয় আটকে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯৫ জন রয়েছেন তিব্বতের ছোট গ্রাম দারচেনে। তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে আসার চেষ্টা করছেন। জিলঙে আটকে রয়েছেন ৪, জ়ুটুলফুকে ৩০ জন।"বাংলার যে বাসিন্দারা নিখোঁজ রয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৫ জনের বাড়ি কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ এলাকায়। বাকি ২৭ জনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অন্তর্গত থানা এলাকায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) জানান, প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও)-এর সঙ্গে কথা হয়েছে। নেপালে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে মুখ্যসচিবের দফতর কথা বলছে।