হড়পা বানের জেরে উত্তর নেপাল জুড়ে শুধুই ধ্বংসলীলা। প্রকৃতির রোষানলে প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী মোট ১৫৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। কলকাতার ৩২ পর্যটক নিখোঁজ। ক্ষতিগ্রস্ত বাংলার বাসিন্দাদের সহযোগিতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নির্দেশে নবান্নে চালু হল হেল্পলাইন। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার,প্রতিমুহূর্তে যোগাযোগ করা হচ্ছে নয়া দিল্লির সঙ্গেও। দুর্যোগ কবলিত এবং তাঁদের পরিবারের সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করেছে কলকাতা পুলিশও (Kolkata Police)। 

বুধবার সকালে আচমকা উত্তর নেপালে হড়পা বান আসায় চোখের নিমেষে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি,সেতু, সরকারি অফিস। ধ্বংসলীলা চলের রসূয়া জেলায়।তিব্বত থেকে জল নেমে আসার কারণে এই বিপর্যয় বলে প্রাথমিক অনুমান। এবং হিমবাহের জলাধার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কলকাতা থেকে যে দল নেপালে গিয়েছিল, তার মধ্যে ৩০ জন পর্যটক এবং দু’জন ভ্রমণ সংস্থার কর্মী ছিলেন। গত ২১ তারিখ দলটি কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিল। ভ্রমণ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দলটি কাঠমান্ডুতে ছিল। বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দলটি অভিবাসন দফতরে ছিল। কিন্তু তারপর আচমকা এই হড়পা বান আসার ঘটনা ঘটে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

 নেপাল পর্যটন বোর্ডের (Nepal Tourism Board) তথ্যানুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজ। এর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। হদিশ মিলছে না নেপালি আধাসেনার কমপক্ষে ৭ জওয়ানেরও। বিদেশিদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের মধ্যে ৩২ জন কলকাতার বাসিন্দা রয়েছেন। বন্যা বিধ্বস্তদের পরিবারের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে নবান্নের (Nabanna) তরফে যে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে তা হল (০৩৩) ২৪৭৯-৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১।নেপালে ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছে হুগলির আরামবাগের একটি পর্যটকদলও। মূল ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে চেতন পার্কে আটকে পড়েছেন পর্যটকরা। সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন বলে ভ্রমণ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।