ভারতীয় রেলের হকার উচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়। তবে বাংলায় বুলডোজার রাজনীতি শুরুর পরে শহর থেকে শহরতলি হকারদের কোনও সুযোগ না দিয়ে দোকানের উপর বুলডোজার চালানো হয়েছে। সেইভাবেই এবার বুলডোজার (bulldozer) রাজনীতি রেলস্টেশনের হকারদের উপর। শহরতলির স্টেশনগুলির পরে এবার কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে হকার উচ্ছেদ (hawker eviction) শুরু। শুক্রবার দমদম জংশন স্টেশনে হকার উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে এক মহিলা হকার (hawker) ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা (suicide attempt) করেন। অন্যান্য হকাররা তাঁকে উদ্ধার করেন।

দিন পাঁচেক আগে নদিয়ার রানাঘাট স্টেশনে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। সেখানে রেল কর্তৃপক্ষ হকার উচ্ছেদে গেলে জীবন ও জীবিকা নিয়ে আতঙ্কে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন এক হকার (hawker suicide)। প্রায় একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি হতে যাচ্ছিল শুক্রবার দমদম জংশন (Dumdum Junction) স্টেশনে। তবে কোনও ক্রমে অন্য হকাররা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাইনে ঝাঁপিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

শুক্রবার দুপুরে হকার উচ্ছেদের ভয়ে দমদম জংশন স্টেশনে হকাররা দোকান বন্ধ রেখে দোকানের সামনে বসে পাহারা দিচ্ছিলেন। সেই সময় তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ট্রেন আসে। সেই ট্রেনটি যখন ছাড়ার উপক্রম করে, তখনই একজন হকার মহিলা (female hawker) ট্রেনের সামনে লাইনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন (suicide attempt)। চালক তৎপরতার সঙ্গে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। দ্রুত অন্যান্য মহিলা হকাররা তাঁকে উদ্ধার করেন। কিন্তু এত বড় ঘটনাতেও দেখা যায়নি কোনও আরপিএফ কর্মীকে।

শুক্রবার দমদম স্টেশনের হকারদের বক্তব্য, আমরা একটা সুস্থ জীবনের জন্য একটা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু এমন পরিবর্তন তো চাইনি। এখন আমরা স্ত্রী-সন্তানের মুখে কী তুলে দেব সেই চিন্তাতেই আছি। এমন পরিবর্তন এলো যে আমাদের পরিবার নিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হচ্ছে। অথচ আমরা রেলের কোনও ক্ষতি না করে সাধারণ মানুষের জন্য একেবারে লাস্ট ট্রেন পর্যন্ত থাকি।

আরও পড়ুন : বিধায়ক থেকে সংবাদ মাধ্যম: রাজ্যের বিধানসভায় একসঙ্গে কণ্ঠরোধের ফতোয়া!

গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তর চব্বিশ পরগণা ও নদিয়ার একাধিক রেলস্টেশনে হকার উচ্ছেদের ঘোষণা করা হয়। প্রায় প্রতিটি জায়গায় সিপিআইএম (CPIM) ও সিটু-র (CITU) কর্মীরা গিয়ে সেই উচ্ছেদ প্রতিরোধ করেন। শুক্রবারও দমদম জংশন স্টেশনে স্থানীয় হকারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে সিপিআইএম নেতা-কর্মীরা। সেই সময়ই ওই হকার মহিলা ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তবে সিপিআইএমের তরফ থেকে জানানো হয়েছে দমদমের হকারদের সঙ্গে তাঁরাও রাত জেগে দমদম জংশন স্টেশনে দোকান পাহারা দেবেন।

–

–
–
–
