লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। দীর্ঘ আবেদনপত্র, বিস্তর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে বাড়ছে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিবরণ, সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য একাধিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা আবেদনপত্র পূরণ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ।

বিতর্ক আরও বেড়েছে রাজ্যের নারীকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি জানিয়েছেন, আবেদনপত্রে চাওয়া সমস্ত তথ্য জমা দিলেই যে আবেদনকারী প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাবেন, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য প্রকল্পের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরপরই বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা নিয়ে মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে মহিলাদের জন্য ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ নিয়ে যে প্রচার হয়েছিল, ভোটের পরে সেই উদ্যোগ কার্যত অন্তরালে চলে গিয়েছে। তার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হলেও প্রকল্পের বাস্তব রূপ এবং সুবিধাভোগীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। তবে আবেদনপত্রের জটিলতা এবং সুবিধা পাওয়ার শর্ত নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এই টানাপোড়েনের মাঝে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন— দীর্ঘ আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করার পর আদৌ কবে এবং কীভাবে মিলবে প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা? সেই উত্তরই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন- অভিষেককে ভর্তি না নিতে ডিসি-র হুমকি: হাসপাতালে সরব মমতা

_

_
_

_
_

_
_
