একদা দুজনেই ছিলেন তৃণমূলে। একজন আগেই ছেড়ে বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ে বিধায়ক, মন্ত্রী। আর একজন তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হলেও বিভীষণ হয়ে বহিষ্কার। দুজনের মতেই, প্রাক্তন শাসকদলটা উঠে যাওয়া না কি সময়ের আপেক্ষা। তবে, দল ভাঙানোর জল্পনা উড়িয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Barejee) বলেন, “আমি নির্দিষ্ট কিছু কাজ নিয়ে বিধানসভায় এসেছি। কোনও তালিকা আনিনি।“ আর তাপস রায় (Taposh Ray) বলেন, “এই তৃণমূলের ভবিষ্য়ত নেই। এই তৃণমূল উঠে যাবে। যে দল এক ব্য়ক্তি ও পরিবারের চিন্তা করে, তাদের থাকা উচিত নয়।“

রাজনৈতিক মহলের জল্পনা ছিল, মঙ্গলবারই বিধানসভায় তৃণমূলের (TMC) বিদ্রোহী বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি জমা দেবেন ঋতব্রত ও আরেক তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তবে, এদিন সন্দীপনকে দেখা যায়নি। বিধানসভায় (Assembly) ঢোকার আগে সব জল্পনা উড়িয় ঋতব্রত বলেন, “কীসের তালিকা, কোন বিধায়ক? বিধানসভায় আমি নিজের কাজে এসেছি, কোনও তালিকা নিয়ে আসিনি। এগুলি সব জল্পনা।“ বিধায়কের কথায়, “আমি নির্দিষ্ট কিছু কাজ নিয়ে বিধানসভায় এসেছি। কোনও তালিকা আনিনি। এই সবই আগাম আন্দাজ (স্পেকুলেশন)। আমি আমার আর সন্দীপনের বাইরে কারও দায়িত্ব নিতে পারব না।“

এর পরই বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে তাপস রায় জানান, “নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে এক মাসও হয়নি। তৃণমূল ভেঙে চুরমার। এমন ঘটনা অতীতে কখনও হয়নি। আসলে তৃণমূল কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না। অরাজনৈতিক নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকাদের ভিড় হয়ে হয়েছিল।“

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে ঋতব্রত (Ritabrata Barejee) বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Benarjee) বড় নেত্রী। আমি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে যে তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা কমে যাবে, এমন কোনও কথা নেই। মমতাই আমার নেত্রী। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দল হাইজ্যাক হয়ে গেছে।“ এর পরেই খোঁচা দিয়ে বিধায়ক বলেন, “তৃণমূলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্পোরেট স্টাইলের পার্টির কোনও মিল নেই। এত বড় ভোট-বিপর্যয়ের ২৬ দিন পর বেরিয়ে এক নেতা যখন চোরপিটুনি বা গণপিটুনি খেলেন, তখন তিনি বললেন তাঁকে জনতা নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিতে হল কেন?“

ঋতব্রতের কথায়, “আমাকে গদ্দার-বিশ্বাসঘাতক বলা হচ্ছে। কিন্তু চোর-চোর শুনতে হচ্ছে না। চোরপিটুনিও খেতে হচ্ছে না“।

–

–

–
–
–
