তপ্ত দুপুর। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চের চারপাশে মানুষের ভিড়। রাজনৈতিক কর্মসূচির মাঝেই হঠাৎ নজর কাড়লেন এক প্রবীণ ব্যক্তি। বয়স প্রায় ৮০। কিন্তু বয়স যেন তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসকে একটুও দমাতে পারেনি। তীব্র রোদ আর শরীরের জরাজীর্ণতাকে উপেক্ষা করে, হাতে দলীয় পতাকা আর মাথায় ‘টিএমসি’ লেখা টুপি পরে সশরীরে হাজির হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিতে।
ভোট-পরবর্তী হিংসা, রিগিং এবং এসআইআর-সহ একাধিক ইস্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট থেকে মিছিল করে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে পৌঁছে ধর্নায় বসেন তিনি। সেই কর্মসূচিতেই উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের এই প্রবীণ তৃণমূল কর্মী। কথা বলতে বলতে কখন যেন বৃদ্ধ ফিরে গেলেন বহু বছর আগের এক অন্ধকার অতীতে। বাম আমলের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়তেই গলাটা বুজে এল তাঁর। ভাঙা ভাঙা গলায় বললেন, “আমার প্রতিটা হাড় ভাঙা। আমাকে ১৬ ঘণ্টা কুওতলার (কুয়োর তলায়) মধ্যে রাখা হয়েছিল। সিপিএমের মার খেতে খেতে… আমাকে মেরে ফেলে দিয়েছিল।” শরীরে সেই মারের দাগ আজও স্পষ্ট, কিন্তু মনের দাগটা বোধহয় মুছে দিয়েছে হাতের ওই তিনরঙা পতাকাটা। বৃদ্ধের কথায়, “এই ফ্ল্যাগটা দেখলে আমার কোনো আর ইয়ে হয় না, মৃত্যুভয় থাকে না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর এই টান আজকের নয়, সেই যখন ১৯৮৪ সালে যাদবপুর থেকে প্রথমবার তরুণী মমতা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই সময় থেকে। তাঁর কথায়, বাংলা মাকে সব অত্যাচার থেকে আগলে রেখেছেন তাঁর ‘দিদি’-ই। দীর্ঘ সময় ধরে রোদে দাঁড়িয়ে থাকায় আশপাশের অনেকেই তাঁকে ছায়ায় গিয়ে বসার পরামর্শ দেন। স্মিত হেসে বললেন, “মাথা সম্পূর্ণ ঠিক আছে।” যাওয়ার আগে শুধু বলে গেলেন, তাঁর এই ভালোবাসার কথা যেন সংবাদমাধ্যমের হাত ধরে পৌঁছায় দিদির দরবারে। এরপর আবার লাঠিতে ভর দিয়ে, পতাকাটা কাঁধে তুলে ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেলেন ৯০ বছরের এই অপরাজেয় সৈনিক। রাজনীতিতে ক্ষমতার লড়াই হয়তো রোজ চলে, কিন্তু এই বৃদ্ধের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মনে করিয়ে দেয়— কিছু মানুষের কাছে আজও আদর্শই পরমায়ু।
আরও পড়ুন- টিম ইন্ডিয়ার সংসারে আকিব, নতুন সহকারী পেলেন গম্ভীর
_
_

_

_

_

_

_

