ছেলের গ্রেফতারির ধাক্কা সহ্য করতে পারলেন না বাবা। মিথ্যা মামলায় পুলিশের হাতে ছেলের বন্দি হওয়ার খবর শুনেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। শিলিগুড়ির এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ধৃত ওই ছাত্রনেতার নাম বিশ্বজিৎ সরকার। তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দার্জিলিং জেলা সভাপতি বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শিলিগুড়ি কলেজে নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে হেল্পডেস্ক বসানোকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, কলেজের সেই হেল্পডেস্ক চত্বরে আচমকাই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ওপর চড়াও হয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) কর্মী-সমর্থকেরা। দু’পক্ষের বচসা থেকে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা বিবেক ঝা-কে লক্ষ্য করে পাথর ও লাঠি নিয়ে আক্রমণ চালানো হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় বিবেককে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর পরই ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয়। অভিযোগ, নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবিভিপির পক্ষ থেকে পালটা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার-সহ অন্যান্যদের নামে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ২৭ মে মধ্যরাতে পুলিশ বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করে।

শিলিগুড়ির ছাত্র রাজনীতি তো বটেই, এমনকি বিরোধীদের কাছেও বিশ্বজিতের এই গ্রেফতারি যথেষ্ট বিস্ময়ের। কারণ, ছাত্র রাজনীতি করলেও এলাকায় শান্ত ছেলে হিসেবেই পরিচিত বিশ্বজিৎ। তাঁর এই অনৈতিক গ্রেফতারি মেনে নিতে পারেননি শহরের বহু সাধারণ মানুষও। পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন বিশ্বজিৎ। ফলে ছেলের এই আকস্মিক পরিণতি মেনে নিতে পারেননি তাঁর বাবা শঙ্কর সরকারও। রবিবার রাতে বাড়িতেই হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর পেয়েই নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে যান মেয়র গৌতম দেব-সহ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতৃত্ব।

সোমবার বিকেলে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় আদালত চত্বরে। বিশ্বজিতের বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে কোর্টে হাজির হন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মী এবং ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। এদিন আদালতের নির্দেশে বিচারক বিশ্বজিতের জামিন মঞ্জুর করেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সোজা বাড়ি পৌঁছন ওই ছাত্রনেতা। সেখানে বাবার নিথর দেহ আগলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বজিতের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়র গৌতম দেব এবং রঞ্জন সরকার তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং পরিবারের গুরুদায়িত্ব পালন করার কথা বলে বুঝিয়ে শান্ত করেন। এবিভিপির চক্রান্তের বলি হতে হল একটি পরিবারকে, এই অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন- ‘হাজার হাজার হকারের পেটে লাথি মারা হয়েছে’, অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধর্মতলায় সরব মমতা

_

_

_
_
_
_
