বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি (BJP) দিয়েছিল, সেই মতোই শুরু হল অন্নপূর্ণা যোজনা। বুধবার থেকেই বৈধ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢুকছে বলে নবান্ন (Nabanna) থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvevdu Adhikari)। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। ফর্ম পূরণের পর ভেরিফিকেশনের পর ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। কারা টাকা পাবেন, আর কারা পাবেন না- সেটাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন নবান্নের সভাঘরে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সূচনা হয়। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Aghnimitra Paul) বলেন, “২৭ তারিখ থেকে আমরা ফর্ম দেওয়া শুরু করেছিলাম। আজ থেকে ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার করা শুরু করল সরকার। যাঁরা যাঁরা আবেদন করে দিয়েছেন, আজ থেকে ব্যাঙ্কে টাকা ঢুকে যাবে।”

অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট করে দেন, “প্রথমে বলা হয়েছিল, ফর্ম দেওয়া লাগবে না, ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার করা হবে। কিন্তু পরে পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, হাজার হাজার, লক্ষ ভুয়ো নাম ঢুকে রয়েছে। সেগুলিকে পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই নতুন ফর্ম দেওয়া হয়েছে।“ মন্ত্রী জানান, ফর্ম আগের থেকেই দেওয়া শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে অনলাইনেও দেওয়া শুরু হয়েছে।
আরও খবর: সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে চালু ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচি

কারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন, কারা পাবেন না? মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, কিন্তু ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন- তাঁদের স্থায়ী ভাবে নাম বাতিল বলে ধরছি না“। শুভেন্দুর (Suvevdu Adhikari) কথায়, “২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনের অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির স্কিমের টাকা ঢুকবে। SIR র পরে দেখা গেল অনেক মানুষ এ দেশের নয়। তাই আমরা নতুন করে ফর্ম পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিই। ১ লাখ ২১ হাজার সিএএ তে আবেদন করেছেন। আরও অনেকে অত্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন। আরও মানুষ সিএএ র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু যাঁরা অবৈধ ভাবে এ দেশে ঢুকেছেন তাঁরা এই অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন না। ভারতীয় নাগরিকত্ব যাঁদের নেই তাঁরা পাবেন না। এই প্রক্রিয়া তিন মাস ধরে চলবে। যেমন যেমন ফর্ম পূরণ করে জমা পরবে, সেগুলো ভেরিফিকেশন করে তারপরই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে যাবে।“

মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাত্র কয়েক দিনের যাচাই প্রক্রিয়ার পর এত সংখ্যক আবেদনকারীকে প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা উপযুক্ত, তাঁরা সকলেই পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ যাওয়া বহু ব্যক্তি অতীতে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। সেই কারণেই নতুন করে নথিভুক্তকরণ এবং যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা বিবেচনার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব মনোজ জানান, প্রকল্পে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রাপকদের তালিকা ব্লক, পঞ্চায়েত এমনকি প্রয়োজন হলে বুথভিত্তিক স্তরেও প্রকাশ করা হবে। কোনও অযোগ্য ব্যক্তি তালিকায় থাকলে সাধারণ মানুষ আপত্তি জানাতে পারবেন। আবার যোগ্য হয়েও কেউ বাদ পড়লে আবেদন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। আবেদন করা যাবে অফলাইন এবং অনলাইন— দুই মাধ্যমেই। বিডিও অফিস, এসডিও অফিস, পৌরসভা, জেলা প্রশাসনের দপ্তর এবং বিধায়কের কার্যালয় থেকে ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার থেকে অনলাইন আবেদনও শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে পাঁচ জন মহিলার হাতে অনুমোদনপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়, আগামী তিন মাস ধরে নথিভুক্তকরণ চলবে এবং প্রতি সাত দিন অন্তর নতুন করে কত জনের আবেদন যাচাই হয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ করবে সরকার।
রাজ্যের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনাকেই ধাপে ধাপে প্রধান আর্থিক সহায়তা প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই লক্ষ্যে যাচাই-পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণ করা হবে।
–
