অবশেষে জাতীয় ই-বিধান অ্যাপ্লিকেশন (National e-Vidhan Application) বা নেভা প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা (Wst Bengal Assembly)। সংসদ ভবনে বুধবার কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেভা সংক্রান্ত ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকে সই হয়। এর ফলে দেশের ৩৩তম আইনসভা হিসেবে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) অর্জুন রাম মেঘওয়াল, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু এবং ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরও পড়ুন: সই-জাল কাণ্ডে ব্যাঙ্কশাল আদালতে অরূপ রায়-সহ তৃণমূল বিধায়করা

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু সরাসরি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক সংস্কারের পরিবর্তে রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন নেভা প্রকল্পকে আটকে রাখা হয়েছিল। ফলে পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার বাইরে থেকে গিয়েছিল। অধ্যক্ষ বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বাধা সরিয়ে জনস্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। তাঁর মতে, নেভা চালু হলে বিধানসভার কার্যসূচি, প্রশ্নোত্তর, কমিটির রিপোর্ট, বিল-সহ সমস্ত নথি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষিত হবে এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র হল সংসদ ও বিধানসভা। সেই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা সময়ের দাবি। তিনি জানান, ডিজিটাল ও কাগজবিহীন বিধানসভা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘এক দেশ, এক অ্যাপ্লিকেশন’ ভাবনার বাস্তব রূপই নেভা। দেশের সমস্ত আইনসভাকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। অর্জুন রাম মেঘওয়ালও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর দ্রুত নেভা প্রকল্পে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কাগজের ব্যবহার কমবে, পরিবেশ সংরক্ষণ হবে এবং বিধানসভার কাজ আরও গতিশীল হবে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান বলেন, নাগরিকদের কাছে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও সহজলভ্য, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে তোলার ক্ষেত্রে নেভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পশ্চিমবঙ্গের যুক্ত হওয়ায় জাতীয় ডিজিটাল আইনসভা কাঠামো আরও শক্তিশালী হল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেভা চালু হলে বিধানসভার অধিকাংশ কাজই অনলাইনে সম্পন্ন হবে। প্রশ্নোত্তর, নোটিশ, বিল, কমিটির রিপোর্ট এবং অন্যান্য নথি ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া যাবে। সরকারের দাবি, এতে প্রশাসনিক দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনই বিপুল পরিমাণ কাগজ সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশ রক্ষাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

–

–

–

–
–
–
