সরকারি-বেসরকারি জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত বে-নিয়মের মামলায় এবার ইডি (ED) দফতরে তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পাণ্ডে (Shreya Pandey)। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই মামলার অন্যতম অভিযুক্তদের মোবাইল চ্যাট ও ডিজিটাল নথি পরীক্ষা করেই শ্রেয়া পাণ্ডের নাম উঠে এসেছে। বেআইনি আর্থিক লেনদেনের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।

ইডির দাবি, এই মামলার তদন্তে নেমে কয়েক দিন আগে শ্রেয়া-ঘনিষ্ঠ কল্যাণ শুক্লাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার আগে কল্যাণের আরবানার আবাসনসহ একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে জমি জালিয়াতি সংক্রান্ত নথিপত্র এবং মোবাইল চ্যাট উদ্ধার করেন আধিকারিকরা। উদ্ধার হওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, অত্যন্ত কম দামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কেনাবেচা হয়েছে। কল্যাণ শুক্লাকে প্রায় ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর শ্রেয়া পাণ্ডের নাম উঠে আসে। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, এই জালিয়াতি ও সিন্ডিকেট চক্রের মূল শিকড় জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু-র সঙ্গে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কর্তা শান্তনু সিনহাকে। গত ১৮ মে ইডি দফতরে আত্মসমর্পণ করার পর গ্রেফতার হন মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুও। ধৃতদের মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করেই শ্রেয়া পাণ্ডের নাম পান তদন্তকারীরা। আরও পড়ুন: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে গবেষণার নতুন সংযোজন প্রেরণা পাবলিশার্সের, প্রকাশিত ‘ইকো-ইথোস’

ইডি সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্রেয়াকে মঙ্গলবার ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত দিনের একদিন আগেই, অর্থাৎ সোমবার তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে ‘স্বেচ্ছায়’ হাজির হন। সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশের মুখে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য না করলেও, সমাজমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মানিকতলা বিধানসভার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর দাবি, সোমবারের জন্য তাঁর কাছে কোনো সমন ছিল না, তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইডি দফতরে গিয়েছেন। মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে তিনি চেনেন না। অন্য এক ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়ির কালীপুজোর অনুষ্ঠানে তিনি তিনবার গিয়েছিলেন ঠিকই, তবে সেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত ছিলেন। জাল নথির মাধ্যমে জমি দখল বা অবৈধ নির্মাণের কালো টাকা কোনোভাবে শ্রেয়া পাণ্ডের অ্যাকাউন্টে এসেছিল কি না, তা জানতে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সিজিও কমপ্লেক্সে জেরা করছেন তদন্তকারীরা।

–

–

–

–

–
–
–
