আরও একবার রাজনীতির আঙিনায় ফিরে এল সেই পরিচিত ‘ঝালমুড়ি’। তবে এবার আর নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে নয়, খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতে এনডিএ শিবিরের হাইপ্রোফাইল বৈঠকে নতুন করে নজর কাড়ল বাংলার এই জনপ্রিয় হালকা খাবার। বুধবার দিল্লিতে এনডিএ ভুক্ত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই বৈঠকের মাঝেই তৈরি হল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। প্রধানমন্ত্রীকে রীতিমতো বাটিতে করে ঝালমুড়ি পরিবেশন করতে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর দিল্লির এই বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার দুপুর নাগাদ দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাতে নয়াদিল্লির সিন্ধু অ্যাপার্টমেন্টে থাকার কথা তাঁর। তবে এদিনের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়াল বৈঠকের মধ্যাহ্নভোজ বা চা চক্রের অন্তর্বর্তী সময়টি। যেখানে রাজনীতির গুরুগম্ভীর আলোচনার মাঝেই হাজির করা হয় ঝালমুড়ি। আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তা পরিবেশন করেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঝালমুড়ির নেপথ্যে রয়েছে এক সুগভীর রাজনৈতিক রসায়ন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন মোদি। সেই সময় তাঁর মন্তব্য ছিল, ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, আর ঝাল লেগেছে তৃণমূলের। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি এবং ভিডিও সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আমজনতার সঙ্গে মিশে গিয়ে তাঁর এই ‘ঝালমুড়ি জনসংযোগ’ যে এবারের ভোটে পদ্মশিবিরকে বিপুল ডিভিডেন্ড দিয়েছে, তা ভোটের ব্যালট বাক্সেই প্রমাণিত। বাংলায় ঘাসফুল শিবিরকে কার্যত নির্মূল করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।

এই ঝালমুড়ির রেশ যে শুধু দেশের মাটিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সম্প্রতি প্রমাণিত হয়েছে সুদূর নেদারল্যান্ডসেও। সেখানে এক প্রবাসী ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনগুলির সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেছিলেন, ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে? যা শুনে উপস্থিত দর্শকদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন- কংগ্রেস-তৃণমূল সমীকরণ: দিল্লিতে জরুরিভিত্তিতে বৈঠক জাতীয় কংগ্রেসের

_

_

_
_
_
_
