রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এবার সংসদীয় ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলতে কোমর বেঁধে নামল নতুন প্রশাসন। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন বা ‘পেপারলেস’ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার স্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু। এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি মউ বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিধানসভার এক সাংবাদিক বৈঠকে অধ্যক্ষ একগুচ্ছ আধুনিক ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, প্রযুক্তির মেলবন্ধনে বিধানসভাকে আরও বেশি স্বচ্ছ, আধুনিক ও সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক করে তোলাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বিধায়কদের পাশাপাশি আমজনতাও সরাসরি বিধানসভার বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন। শুধু তাই নয়, নতুন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, মতামত এবং পরামর্শ জানানোর সুযোগও থাকছে। এর পাশাপাশি, আসন্ন বাজেট অধিবেশন থেকেই বিধানসভার যাবতীয় কার্যক্রমের সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করার জোরালো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অষ্টাদশ বিধানসভায় এবার নতুন মুখের ছড়াছড়ি। প্রায় ২০০ জনেরও বেশি নবনির্বাচিত বিধায়ক প্রথমবার এই ঐতিহাসিক ভবনের চৌকাঠ পার করেছেন। তাঁদের সংসদীয় রীতিনীতি ও আইনকানুনের পাঠ দিতে বাজেট অধিবেশনের পরেই একটি বিশেষ দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। অধ্যক্ষ জানান, নতুন বিধায়কদের প্রশিক্ষকের ভূমিকায় দেখা যাবে এ রাজ্যের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিদের। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের প্রবীণ বিধায়করাও এই পাঠশালায় বিশেষ ক্লাস নেবেন। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট সংসদীয় বিশেষজ্ঞরা এই কর্মশালায় যোগ দেবেন।

শুধু প্রযুক্তির আধুনিকীকরণই নয়, বিধানসভাকে প্রকৃত অর্থেই জনমুখী করে তুলতে একগুচ্ছ সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রথীন্দ্র বসু। এবার থেকে স্কুলপড়ুয়া, প্রবীণ নাগরিক এবং আইনের ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে বসে কাজ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। বিধানসভার ঐতিহ্যবাহী মিউজিয়ামটি গবেষকদের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হচ্ছে এবং এর ঐতিহ্যবাহী হলটি ব্যবহার করা হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য।

এদিনের বৈঠকে সম্প্রতি চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) জোন-২ সম্মেলনে নিজের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন অধ্যক্ষ। দিল্লি, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার ও সাংসদদের উপস্থিতিতে হওয়া ওই সম্মেলনে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’।

আরও পড়ুন – বৈঠক শেষে উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের আশ্বাস রাজ্যের নয়া অর্থমন্ত্রী

_

_
_
_
_
